বাংলাদেশে নির্বাচন (election in Bangladesh) নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে (interim government) টানাপোড়েনে অনেকগুলি দলকে পাশে পেল বিএনপি (BNP)।

দ্রুত ভোট চাইল অনেক দল
শেষ আপডেট: 3 June 2025 07:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে নির্বাচন (election in Bangladesh) নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে (interim government) টানাপোড়েনে অনেকগুলি দলকে পাশে পেল বিএনপি (BNP)। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের (Md Yunus) ডাকা ঐকমত্য কমিশনের (consensus commission) বৈঠকে বিএনপি-র পাশাপাশি বহু দল দেশে দ্রুত জাতীয় নির্বাচন (parliamentary election) করানোর দাবি তোলে। বিএনপি-র পক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব।
নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা নিয়ে বিএনপি-র সঙ্গে সরকারের বিরোধ তীব্র মাত্রা নেয় গত সপ্তাহে। জাপান সফরে গিয়ে মহম্মদ ইউনুস দাবি করেন, একটি মাত্র দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইছে। নাম না করলেও তিনি বিএনপি-কে ইঙ্গিত করেছেন স্পষ্ট হয়ে যায়। ঢাকায় সোমবারের ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তিরিশটির মতো দল অংশ নেয়। সেখানে বেশিরভাগ দল দ্রুত নির্বাচনের দাবি তোলে।
যদিও ভিন্ন অবস্থানে অনড় থাকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party)। ওই দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আগে জুলাই সনদের ঘোষণা চাই। এ জন্য দরকারে আরও কয়েকমাস অপেক্ষা করব। জুলাই সনদ ঘোষণার আগে নির্বাচন করা যাবে না।
বিএনপি-র অবস্থান শক্ত হয় জামায়াতে ইসলামের (Jamaat-e-Islami) বক্তব্যেও। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন মে-জুন মাসে প্রাকৃতিক কারণেই ভোট করানো সম্ভব নয়। আবার এপ্রিলে রোজা আছে। তার আগে ভোট করাতে হবে। বিএনপি-র সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, তাঁরা মনে করেন, সংবিধান বাদে বাকি সব ক্ষেত্রে ন্যুনতম সংস্কার আগামী এক মাসের মধ্যে সেরে ফেলা সম্ভব। ওই নেতার কথায়, বাকি সংস্কার ভোটের পর করা সম্ভব। সংস্কারগুলি নির্বাচনী ইস্তাহারে ঘোষণা করে দেওয়া হবে। যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা সংস্কার বাস্তবায়ন করবে।
তবে সোমবারের বৈঠকেও ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে রা কাড়েননি প্রধান উপদেষ্টা। তবে তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যে ভোট হবেই। প্রধান উপদেষ্টা এক কথার মানুষ। ভোটের দিন ৩০ জুন পেরবে না। তার আগেই ভোট হবে।
ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান ইউনুস স্বয়ং। তাঁর সরকার যে সংস্কার কমিশনগুলি গঠন করেছে সেগুলির সুপারিশ বাস্তবায়নে দলগুলির মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে এই কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রথম দফার আলোচনা শেষে সোমবার দ্বিতীয় দফার চর্চার সূচনা হয়। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐক্য অক্ষুন্ন রাখার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে দলগুলির মধ্যে অভাবনীয় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে।