রবিবার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এক বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বাংলাদেশের খুলনা ও যশোর অঞ্চলকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করার যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন তা গভীর উদ্বেগজনক।

শেষ আপডেট: 29 March 2026 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যশোর (Jessore), খুলনা (Khulna) নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)। বিজেপি নেতার বক্তব্যকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেছেন ওই দেশের উগ্র ইসলামপন্থী দলটি।
রবিবার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এক বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বাংলাদেশের খুলনা ও যশোর অঞ্চলকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করার যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন তা গভীর উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে দলের এই বক্তব্যের কথা জানান।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বাংলাদেশের খুলনা ও যশোর অঞ্চলকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যুক্ত করার উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। আমরা তাঁর বাংলাদেশের অখণ্ডতা বিরোধী এবং উগ্র ও অগ্রহণযোগ্য মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি এই ধরনের বক্তব্য প্রদান করে আন্তর্জাতিক নীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী সম্পর্কের মূলে কুঠারাঘাত করেছেন। এতে তার উগ্র মানসিকতার নির্লজ্জ প্রকাশ পেয়েছে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম হুমকি।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সীমান্তে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা একটি মারাত্মক হুমকি। বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের চলমান সামরিক কার্যক্রম, ভারতীয় স্যাটেলাইটের পর্যবেক্ষণ এবং ধর্মীয় উসকানি ছড়ানোর কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ। আমরা বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে, এসব প্রক্রিয়া বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
প্রসঙ্গত গত মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে তৃণমূল সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন শমীক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করে রাজ্য এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করা হচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো হবে বলেও জানান তিনি।
খিদিরপুর, মহেশতলা এবং মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ টেনে শমীক বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় মেরুকরণ বাড়ানো হয়েছে। তাঁর দাবি, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাসেও পরিবর্তন এসেছে এবং বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগও ফের তোলেন তিনি।
বিতর্ক উস্কে দিয়ে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ থেকে কেউ এলে নিজের জমি নিয়ে আসুক। না হলে যাঁরা পাঠাচ্ছেন, তাঁদেরই যশোর-খুলনা ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া উচিত।'
শমীকের বক্তব্যের জবাবে জামাত নেতা গোলাম পরওয়ার বলেন, ভারতীয় নেতৃবৃন্দকে সতর্ক করছি যে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি কোনওরকম হস্তক্ষেপকে বাংলাদেশের জনগণ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং আমরা আশা করছি বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি প্রতিকার গ্রহণে কোনও দ্বিধা করবে না।
আমরা ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মনীতি মেনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি তার এই উগ্র মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।
পরিশেষে তিনি বিজেপি নেতার উসকানিমূলক বক্তব্যের কড়া ভাষায় জবাব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন এবং যে কোনও মূল্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা জোরদারের প্রতি দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।