গত মাসের ১৭ তারিখ তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিএনপি সরকার (BNP Govt) গঠনের পর বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর এই প্রথম ভারতে আসতে চলেছেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি ছিলেন সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
.jpg.webp)
ভারতে আসছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী
শেষ আপডেট: 29 March 2026 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমানকে (Khalilur Rahaman) ভারতে পাঠাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। ৮ এপ্রিল তাঁর নয়া দিল্লি আসার কথা। সেখান থেকে তাঁর মরিশাসে ভারত মহাসাগরীয় সহযোগিতা মঞ্চের সম্মেলনে যোগদান করতে যাওয়ার কথা।
দিল্লি সফরে এখনও পর্যন্ত খলিলুর রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শংকর (S Jaishankar) এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের (Ajit Doval) সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গেও তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে। তবে সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত মাসের ১৭ তারিখ তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিএনপি সরকার (BNP Govt) গঠনের পর বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর এই প্রথম ভারতে আসতে চলেছেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি ছিলেন সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। সেই পদে থাকার সুবাদে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দোভালের সঙ্গে তাঁর একত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রী জয়শংকরের সঙ্গে দিল্লিতে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ এবং বৈঠক হওয়ার কথা।
বাংলাদেশ ও ভারতের তরফে যে দুটি অভিন্ন বিষয়কে এই সফরে আলোচনার জন্য বাছাই করা হয়েছে তা হল গঙ্গাজল চুক্তির পুনর্নবীকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গাজল চুক্তির পুনর্নবীকরণ হওয়ার কথা। দু দেশই চাইছে, চলতি বছরেই চুক্তি নবীকরণের কাজ সম্পন্ন হোক। ৩০ বছর আগে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার বাড়তি জল যে দরবার করবে বলে মনে পড়ছে না দিল্লি। ইতিমধ্যে অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ার পর্যায়ের বৈঠকে ঢাকার তরফে তেমনই আভাস দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় যে বিষয়টি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর সফরে গুরুত্ব পেতে পারে তা হল আঞ্চলিক নিরাপত্তা। বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলি যাতে এক দেশের ভূমি অপর দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে সেই ব্যাপারে নতুন সরকারের সঙ্গে প্রথম থেকেই বোঝাপড়া গড়ে তুলতে আগ্রহী ভারত। বিএনপি সরকারের তরফেও এই ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ একাধিক শীর্ষ বিএনপি নেতা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের মাটি, ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে ভারতে যে একইভাবে বাংলাদেশের দুষ্কৃতিদের এদেশে পালিয়ে থাকার সুযোগ দেবে না তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ সে দেশের ইনকিলাব মঞ্চের নেতা প্রয়াত শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারী ও আশ্রয়দাতা মিলিয়ে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যে ধৃত তিনজনকে তাদের হেফাজতে চেয়েছে। নয়া দিল্লির বৈঠকের খলিলুর রহমান এই বিষয়টি উল্লেখ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের তরফে যে বিষয়টি আলাদা করে উল্লেখ করার কথা তা হল সে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট। ডিজেলের অভাবে দেশটির বহু পাম্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জ্বালানি তেল কেনা নিয়ে আইনশৃংখলার অবনতি হতে শুরু করেছে। এমনকী চাহিদা মত তেল না দেওয়ায় একজন পেট্রোল পাম্প মালিককে ট্রাকচালকের পিষে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। অস্থিরতা সামাল দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ নয়টি জেলায় পেট্রোল পাম্পে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ সরকার। এই পরিস্থিতিতে ভারতের উপর অনেকটা নির্ভর করছে বাংলাদেশ। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে আলাদা বৈঠকে এই বিষয়ে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।
তাৎক্ষণিকভাবে ভারত ইন্ডিয়া বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দিয়ে ৫০০০ টন ডিজেল বাংলাদেশকে সরবরাহ করেছে। আরো জ্বালানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ভারতের তরফে।