অস্থিরতার নেপথ্যে বারবারই উঠে আসছে মহম্মদ ইউনুস (Muhammad Yunus)-এর ব্যর্থ অন্তর্বর্তী শাসনের ছায়া, যার শেষ অধ্যায়েই বাংলাদেশ কার্যত নতুন এক অরাজকতার পথে হাঁটছে।
.jpeg.webp)
বিএনপি শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকার করেছে।
শেষ আপডেট: 17 February 2026 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্ষমতার মসনদে বসার আগেই ফের অশান্তির মুখে বাংলাদেশ (Bangladesh)। শপথগ্রহণ ঘিরে বিএনপি (BNP), জামাত-ই-ইসলামি (Jamaat-e-Islami) ও ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (NCP)-র সংঘাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ভোটেও দেশের রাজনৈতিক সংকট আদৌ কাটেনি, বরং আরও গভীর হয়েছে। আর এই অস্থিরতার নেপথ্যে বারবারই উঠে আসছে মহম্মদ ইউনুস (Muhammad Yunus)-এর ব্যর্থ অন্তর্বর্তী শাসনের ছায়া, যার শেষ অধ্যায়েই বাংলাদেশ কার্যত নতুন এক অরাজকতার পথে হাঁটছে।
ফেব্রুয়ারি ১২-র নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সেই ভোট নিয়ে কারচুপি (rigged election) ও অনিয়মের অভিযোগ আজও কাটেনি। তার উপর একই দিনে ‘জুলাই সনদ’ (July Charter) নিয়ে গণভোট— যেখানে সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ (Constitution Reform Council)-এ পরিণত করার প্রস্তাব পাশ হয়েছে। ইউনুস সরকারের তত্ত্বাবধানে হওয়া এই দ্বৈত ভোটই আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিস্ফোরণের মূল কারণ।
বিএনপি শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকার করেছে। ফলস্বরূপ জামাত ও এনসিপি ঘোষণা করেছে, বিএনপি যদি পূর্ণ শপথ না নেয়, তারা সংসদে কোনও শপথই নেবে না। কার্যত সংসদ গঠনের আগেই সরকার বনাম শরিকদের মুখোমুখি সংঘর্ষ। জামাত নেতা সইদ আবদুল্লা মহম্মদ তাহেরের বক্তব্য, সংস্কার ছাড়া সংসদ অর্থহীন (parliament without reforms)। এনসিপির অবস্থানও একই। তারা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছে— শপথের নামে প্রহসন চললে ফের রাজপথে নামবে (street protests)।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে নারী নির্যাতন ও গণধর্ষণের অভিযোগ। নোয়াখালিতে (Noakhali) এক এনসিপি সমর্থক মহিলাকে গণধর্ষণের ঘটনা তুলে ধরে জামাত বলছে, ভোট-পরবর্তী হিংসা (post-poll violence) ও ধর্ষণ মিলিয়ে নতুন সরকারও ‘ফ্যাসিবাদ’ (fascism)-এর পথেই হাঁটছে। এই ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটাই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার হয়েছিল, আজ সেই একই অভিযোগ তোলা হচ্ছে তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বাধীন বিএনপির বিরুদ্ধে। অর্থাৎ ইউনুস-পরবর্তী বাংলাদেশে ক্ষমতা বদলালেও রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলায়নি।
এখানেই ধরা পড়ছে ইউনুসের আসল ব্যর্থতা। ১৮ মাস ক্ষমতায় থেকেও তিনি কোনও গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারেননি। বরং একদিকে মৌলবাদী শক্তিকে প্রশ্রয় (Islamist influence), অন্যদিকে ভারতের বিরুদ্ধে পরোক্ষ কূটনৈতিক উসকানি (anti-India rhetoric)— এই দুই মেরুর মাঝে বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছেন গভীর অনিশ্চয়তায়। ইউনুসের শাসনামলে সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতন (Hindu persecution), মন্দির ভাঙচুর, টার্গেটেড হিংসা বেড়েছে। অথচ বিদায়ী ভাষণে তিনি এসবের একটিও স্বীকার করেননি। উল্টে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল (Seven Sisters) ও চিন (China) প্রসঙ্গ টেনে ভারত-বিরোধী জাতীয়তাবাদে আগুন জ্বালিয়েছেন।
আজ সেই নীতিরই ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি কার্যত রাস্তায় নামার মুখে। সংসদের ভেতরে সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংঘাত, আর বাইরে জামাত-এনসিপির আন্দোলনের হুমকি। রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোই প্রশ্নের মুখে। ভারতের (India) দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। একদিকে চিনা প্রভাব বাড়ছে (China footprint), অন্যদিকে ইসলামি জোটের রাজপথের রাজনীতি আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে। ইউনুস যে ‘ভারত-বর্জিত কূটনীতি’ দেখাতে চেয়েছিলেন, তার বাস্তব ফল এখন স্পষ্ট। অস্থির বাংলাদেশ, দুর্বল গণতন্ত্র, শক্তিশালী মৌলবাদ।