শুক্রবার জন্মাষ্টমীর দিন চিন্ময়কৃষ্ণকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রসংঘের (United Narions) হস্তক্ষেপ দাবি করেছে সংগঠনটি। তারা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণও করেছে। রাষ্ট্রসংঘের প্রতি তারা আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বাংলাদেশ সরকার জন্মাষ্টমীর এই দিনে হিন্দু পুরোহিত চিন্ময় দাসকে কারাগার থেকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করে।

শেষ আপডেট: 16 August 2025 16:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রদ্রোহের (Sedition charge) মামলায় এখনও চট্রগ্রামের জেলে (Chattagram court) বন্দি হিন্দু সাধু চিন্ময়কৃষ্ণ দাস (Hindu monk Chinmay Krishna Das)। রাষ্ট্রদ্রোহ ছাড়াও খুন সহ আরও পাঁচটি গুরুতর অপরাধের মানলায় তাঁর নাম জুড়েছে বাংলাদেশ পুলিশ যা মানবাধিকার হরণ বলে একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন দাবি করেছে। তাঁর মুক্তির দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস গ্রুপ (Rights and Risk Analysis Group--RRAG) নামে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। শুক্রবার জন্মাষ্টমীর দিন চিন্ময়কৃষ্ণকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রসংঘের (United Narions) হস্তক্ষেপ দাবি করেছে সংগঠনটি। তারা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণও করেছে। রাষ্ট্রসংঘের প্রতি তারা আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বাংলাদেশ সরকার জন্মাষ্টমীর এই দিনে হিন্দু পুরোহিত চিন্ময় দাসকে কারাগার থেকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করে।
শনিবার বাংলাদেশের জন্মাষ্টমীর মূল শোভাযাত্রাটি হবে ঢাকায়। রাজধানীর পলাশিপাড়া মোড়ে সেটির উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। থাকবেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মহম্মদ নজমুল হুসাইন এবং বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান।
বাংলাদেশ সেনার তিন বাহিনীর প্রধানের জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে যোগদানকে নাটক এবং হিন্দুদের উপর চলমান নিরবচ্ছিন্ন নিপীড়নের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার জন্য মরিয়া চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে রাইরস অ্যান্ড রিস্ক অ্যানালিসিস গ্রুপ।
আরআরএজি বলেছে, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মহম্মদ ইউনুসের এক বছরের শাসনামলে মোট ২,৪৮৫টি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই তথ্য দিয়ে সংগঠনের মুখ্য পরিচালক সুহাস চাকমা ( Suhas Chakma, Director, RRAG) বলেন, 'যদি বাংলাদেশ সরকার আন্তরিক হয়, তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্তত আজ জন্মাষ্টমীর দিনে চিন্ময় দাস প্রভুকে জামিনে মুক্তি দেওয়া উচিত। ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন, প্রথমে একটি ব্যক্তিগত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায়, যেখানে অভিযোগ ছিল তিনি ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাসনেস (ইসকন)-এর পতাকা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপরে টাঙিয়েছিলেন। পরে আদালত প্রাঙ্গণে একজন আইনজীবী হত্যার ঘটনায় সাধুর নাম জড়ানো হয় যখন তিনি পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। যদি তাঁর দ্বারা কোনও ষড়যন্ত্র হয়ে থাকে, তবে তা ছিল বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে, যাদের হেফাজতে তিনি ছিলেন। কিন্তু ওই হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের কোনো নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি!
সুহাস চাকমা আরও বলেন, সরকার পক্ষ চিন্ময় দাসের জামিনের বিরোধিতা করছে, যাতে হিন্দুদের পরিষ্কার বার্তা দেওয়া যায় যে তারা যেন কোনও রাজনৈতিক সভা না করে। শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেমন জন্মাষ্টমী উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকে।'