Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

১৫ অগস্ট, ২০২৫: বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর ৫০ বর্ষে বাংলাদেশ-মুজিব-মুক্তিযুদ্ধ একাকার, ভয় পেল সরকার

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উগ্রবাদীরা সেনা-পুলিশকে সাক্ষী রেখে সেই বাড়িতে আগুন দেয়। তারপর বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। সেটি এক ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।

১৫ অগস্ট, ২০২৫: বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর ৫০ বর্ষে  বাংলাদেশ-মুজিব-মুক্তিযুদ্ধ একাকার, ভয় পেল সরকার

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 15 August 2025 21:44

অমল সরকার

তাঁর প্রতিষ্ঠিত দলটির কার্যকলাপ নিষিদ্ধ। দলের প্রথমসারির নেতা-নেত্রী দেশছাড়া, বাড়িছাড়া, এলাকা ছাড়া। দেশ ছাড়া এমনকী তাঁর দুই কন্যা। তাঁর হাতে তৈরি ছাত্র সংগঠনটিকে আগেই পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। তাঁকে নিয়ে দু কথা বলা, তাঁর ছবি, তাঁকে নিয়ে লেখা বই সংগ্রহে রাখা, তাঁর নামে স্লোগানে দেওয়া—নিষিদ্ধের তালিকা ক্রমে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। এইভাবে্ তাঁকেই নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশে।

তারপরও শুক্রবার বাংলাদেশের মানুষ যে গভীর শ্রদ্ধায় শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করল, তাঁর মৃত্যুদিনে শোক পালন করল, তা অকল্পনীয় বলে মনে হয়েছে সে দেশের বহু মানুষ এবং বাংলাদেশ পর্যবেক্ষকদের। সরকারের যাবতীয় বাধা, অসহযোগিতাকে উপেক্ষা করে বহু মানুষ এমনকী পৌঁছে গিয়েছিলেন তাঁর স্মৃতি বিজড়িত ঢাকার ধানমন্ডি ৩২-এর বাড়িটিতেও। যেটি এখন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।

ওয়াকিবহাল অনেকেরই এই সূত্রে ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়ে সিপিএম নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘতম সময়ের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর একটি মন্তব্য মনে পড়ে যাচ্ছে। ১৯৮৪ সালে জঙ্গিদের হাতে নিহত হওয়ার পর ভারতের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস রেকর্ড মার্জিনে জিতেছিল যা আজও অক্ষত। অনেকেই বলেন, ইন্দিরা পুত্র রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস সেই বিজয় হাসিল করলেও মানুষ আসলে ভোট দিয়েছিল মৃত ইন্দিরাকে স্মরণে রেখে। বিরোধীরা সেই ভোটে ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ায় জ্যোতি বসু বলেছিলেন, ‘মৃত ইন্দিরা জীবিত ইন্দিরার থেকে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।’

ঘটনাচক্রে ইন্দিরা ও মুজিব সমসাময়িক রাজনীতিকই শুধু নন, দু’জনেই একই সময় নিজ নিজ দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে ‘মুক্তিসূর্য’ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন একটি যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১-এ দু’জনেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হয়েছিল। ভারত-পাক যুদ্ধ আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একাকার হয়ে গিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের জেলে বন্দি শেখ মুজিবের প্রাণ বাঁচাতে দেশে দেশে দৌত্য করেন ইন্দিরা। বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে বহু দেশের সমর্থন আদায় করেন। সেই শেখ মুজিব নিজের দেশে নিজেরই সেনা বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার পর সে যাত্রায় তাঁকে রক্ষা করতে না পারায় আক্ষেপ করেছেন ইন্দিরা। বিদেশে থাকা মুজিবের দুই কন্যা হাসিনা ও রেহানাকে দিল্লিতে নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করেন ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের একাংশের অভিযোগ ছিল, জাতির পিতা, মুক্তিযুদ্ধের কান্ডারি মুজিবকে তারা দলীয় নেতায় পরিণত করেছেন। শুক্রবার দল, মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ মুজিবকে তাঁর প্রয়ান দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করে  সকলের করে নিয়েছেন। আওয়ামী লিগকে 'মুজিবকে কুক্ষিগত করার' অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের জন্য এই অমূল্য প্রাপ্তি যেমন উপরি পাওনা তেমনই তাঁদের মনে, এই ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।

শুক্রবার বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে মৃত্যুদিনে মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ঢল দেখে অনেকেই মনে করছেন সরকার এবং সহযোগী শক্তির জন্য দিনটি চিন্তার কারণ হয়ে থাকল। আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতি কোনও দিকে মোড় নেয় তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের কারণ হয়ে থাকল দিনটি। জনতার মুড বলে দিল, বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধ। একাত্তরের চেতনা এবং মুজিববাদকে নসাৎ করে বাংলাদেশে রাজনীতি করা কঠিন হবে।

১৫ অগস্ট শুক্রবার। ১৯৭৫-এর এই দিনে ঢাকার ধানমন্ডির বাড়িতে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে খুন হন দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। বিগত বহু বছরের মতো আজ ছুটি ছিল না বাংলাদেশে। গত বছর থেকেই এদিনের ছুটি বাতিল হয়েছে। বাতিল হয়েছে দিনটিকে সরকারিভাবে জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত। গত বছর এই দিনে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে শোক-শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া লোকজনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল উগ্রবাদীদের হাতে।

‘বাংলাদেশের গর্ভাশয়’ ধানমন্ডি ৩২-এর সেই বাড়ির এখন সামান্যই অক্ষত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উগ্রবাদীরা সেনা-পুলিশকে সাক্ষী রেখে সেই বাড়িতে আগুন দেয়। তারপর বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। সেটি এক ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।

গত কয়েকদিন যাবত মহম্মদ ইউনুস সরকারের নানা পদক্ষেপে বোঝা যাচ্ছিল, সেই ধ্বংসস্তুপ নিয়ে সরকার কেমন আতঙ্কিত। সেনা-পুলিশের তৎপরতায় বাড়িটির ব্যারিকেড আরও মজবুত করা হয়েছে। বাড়িটি থেকে প্রায় দেড়-দু কিলোমিটার দূরে বসানো হয় সেনা-পুলিশের যৌথ বাহিনীর চেক পোস্ট। সেখানে এমনকী তল্লাশির মুখে পড়তে হয়েছে ওই চত্ত্বরের বাসিন্দাদেরও।

জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ওই বাড়িতে কাউকে শ্রদ্ধা জানানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকারিভাবে শেখ মুজিবুর রহমান এখনও বাংলাদেশের জাতির পিতা। সংবিধানে, সরকারি নথিপত্রে সে কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু তাতে কী? প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম একাধিকবার ঘোষণা করেন, বাংলাদেশের কোথাও মুজিব স্মরণের অনুষ্ঠান সরকার বরদাস্ত করবে না। মুজিবকে শ্রদ্ধা জানাতে কোনওরকম অনুষ্ঠান করা হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

অন্তর্বর্তী সরকার শুধু মুজিবকে জাতির পিতা মানতে নারাজ তাই-ই নয়, জয় বাংলা স্লোগানকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তারা। জয় বাংলা-কে তারা জাতীয় স্লোগান বলে মানে না, আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে ইউনুস সরকার।

গত বছর ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দশদিনের মাথায় ১৫ অগস্ট প্রকাশ্যে মুজিবের মৃত্যুদিন পালন ছিল জীবন বাজি রাখার মতো ব্যাপার। শুধু সরকার, সেনা-পুলিশের রক্তচক্ষুই নয়, রাজপথ থেকে তস্য গলি, সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল বিএনপি-জামাত ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের ঠাংঙাড়ে বাহিনী। ততদিনে শেখ মুজিব ও তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের শত শত স্ট্যাচু, ম্যুরাল গুড়িয়ে দেওয়া হয়। যে ধ্বসংযজ্ঞ শুরু হয়েছিল ৫ অগস্ট দুপুরের পর থেকে।

তারপর পদ্মা-মেঘনা-যমুনা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে বটে। কিন্তু এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যম্তরীণ পরিস্থিতির যে একটা পরিবর্তন হয়েছে তা টের পাওয়া গেল শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর ৫০তম দিনটিকে। সেভাবে সে দেশের মানুষ সরকার, সেনা-পুলিশ-বিএনপি-জামাত-এনসিপি’র রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতার মর্যাদায় স্মরণ করল, শ্রদ্ধা জানাল তা এককথায় অভাবনীয়। স্বভাবতই শ্রদ্ধা-স্মরণের দৃশ্যগুলি ভয় ধরিয়েছে সরকার ও তাঁর সহযোগী রাজনৈতিক শক্তিকে, মনে করছে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই।  

শুক্রবার বহু মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ধানমন্ডির বাড়ির মুখে ফুলমালা নিয়ে হাজির হন। বাধা পেয়ে তাঁরা ফিরে যান। এই তালিকায় ছিলেন একজন রিকশ চালকও। যিনি পুষ্পস্তবক নিয়ে হাজির হন। বলেন, জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাকতে এসেছি।  তবে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি পাননি। আওয়ামী লিগের নেত্রী পরিচয় দিয়ে এক মহিলাও হাজির হন শ্রদ্ধা জানাতে। পুলিশ জোর করে তাঁকে একটি রিকশয় তুলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। বরিশালের এক ব্যক্তি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ধানমন্ডির বাড়িতে যান। তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লিগ করি না। তবে বঙ্গবন্ধুকে মানি। উনি জাতির পিতা। এই বাড়িতে তাঁকে হত্যা করা হয়। মৃত্যুদিনে কেন তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে পারব না। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে শেষে আটক করে। চট্টগ্রাম থেকে এক ব্যক্তি সপরিবারে জাতির পিতার বাড়ি দর্শন করতে গিয়েছিলেন। বাধা পেয়ে তিনিও ফিরে যান।


```