গত বছর ১ জুলাইয়ে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা বিলোপের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে সেই আন্দোলন সরকার উৎখাতের আন্দোলনে পরিণত হয়।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 24 June 2025 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ১ জুলাই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (International Crimes Teibunal, Bangladesh) শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে চার্জ গঠন (charge frame) করা হবে। মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারীরা চার্জশিট পেশ করেছেন।
গত বছর ১ জুলাইয়ে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা বিলোপের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে সেই আন্দোলন সরকার উৎখাতের আন্দোলনে পরিণত হয়।
১জুলাই ঢাকা সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা রাস্তা, রেলপথ অবরোধ করা শুরু করে। কোটা পুনর্বহালের দাবিতে ৫ জুন বাংলাদেশের হাই কোর্ট রায় দেয়। রায়ের বিরুদ্ধে পথে নামে ছাত্ররা। শেষ পর্যন্ত যা ছাত্র জনতার আন্দোলনে পরিণত হয়।
সোমবার ছিল আওয়ামী লিগের ৭৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এই উপলক্ষে ভাষণে শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে অনেক কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, সব মামলাই মিথ্যা। এই ট্রাইব্যুনাল বেআইনিভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা শুরু করেছে বলে অভিযোগ আওয়ামী লিগ নেত্রীর।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হতে বিচারপতি গোলাম মোর্তূজা মজুমদারের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল। এই মামলায় নাম আছে হাসিনা সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এব বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি জেলে আছেন। মঙ্গলবার তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
বাংলাদেশে গত বছর জুলাই মাস ছিল অশান্ত, হিংসাত্মক। ১৪ জুলাই হাসিনার একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের জেরে কোটা বিরোধী আন্দোলন তীব্রতা পায়। গণভবনের সাংবাদিক বৈঠকে এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা মন্তব্য করেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতিরা কোটা পাবে না তো কি রাজকারের নাতিপুতিরা পাবে? আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের রাজাকারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজে রাজাকার একটি অপশক্তির পরিচায়ক শব্দ। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের দমন করতে রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল পাক সেনাবাহিনী। হাসিনা ২০০৮-এর ভোটে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বিচার শুরু করেন। বেশ কয়েজজন সাবেক রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। যাবজ্জীবন সাজাও বেশ কয়েকজনের।
রাজাকার নিয়ে বিতর্কের জেরে ১৬ জুলাই থেকে গোটা বাংলাদেশ অশান্ত হয়ে ওঠে সরকার বিরোধী আন্দোলনে। ৫ অগাস্ট তা চূড়ান্ত আকার নেয়। দেশ ছাড়তে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রের খবর, গোটা জুলাই মাস ধরেই চলবে হাসিনার বিচার। অক্টোবরের মধ্যে প্রথম মামলার সাজা ঘোষণার লক্ষ্য নিয়ে এগচ্ছে ট্রাইব্যুনাল ও সরকার। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কথায়, দ্রুত এবং ন্যায্য বিচার ট্রাইব্যুনালের অগ্রাধিকার।