বাঙালিরে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আওয়ামী লিগকে দাবায়ে রাখতে পারব না। আওয়ামী লিগকে নিকেশ করা যায়নি, যাবে না।’ বলেছেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 24 June 2025 11:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালিরে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আওয়ামী লিগকে দাবায়ে রাখতে পারব না। আওয়ামী লিগকে নিকেশ করা যায়নি, যাবে না।’ বলেছেন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina, ex PM of Bangladesh)।
সোমবার ছিল তাঁর দল আওয়ামী লিগের ৭৬তম জন্ম বার্ষিকী (76th Foundation day of Awami League)। এই উপলক্ষ্যে হাসিনা গ্রেট ব্রিটেন আওয়ামী লিগ (Great Britain Awami League) আয়োজিত সমাবেশে দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দীর্ঘ ভাষণ দেন। বাংলাদেশে আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় লন্ডনের এক প্রেক্ষাগৃহে প্রধান সমাবেশের আয়োজন করেছিল দল। বাংলাদেশ-সহ বিশ্বের নানাপ্রান্ত থেকে আওয়ামী লিগ সমর্থকেরা সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন। ভারতীয় সময় বেশি রাতে হাসিনা সভায় ভাষণ দেন। এযাবৎ কালের মধ্যে সেটাই ছিল আওয়ামী লিগ নেত্রীর দীর্ঘ এবং দৃপ্ত কণ্ঠের ভাষণ।
সেই ভাষণে হাসিনা বাঙালি-বাংলাদেশ-আওয়ামী লিগ—এই বার্তা প্রতিষ্ঠা করেন নানা দৃষ্টান্ত দিয়ে। তাঁর বক্তব্য, যে আওয়ামী লিগ দেশ স্বাধীন করল, মুক্তিযুদ্ধ করল আজ তাদেরই কিনা দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল করে দিয়েছে। এরপরই বলেন, ‘আমাদের দাবায়ে রাখতে পারব না। আওয়ামী লিগকে নিকেশ করতে পারবা না। আমরা ঘুরে দাঁড়াবই। সংকটের মেঘ কেটে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ভাষণে বারে বারে ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’ কথাটি ব্যবহার করে হাসিনা মুক্তিযুদ্ধ ও তার আগের দিনগুলির সঙ্গে আওয়ামী লিগের এখনকার নেতা-কর্মীদের যোগসুত্র ঘটাতে চেয়েছেন। চেয়েছেন দলের উজ্জ্বল অতীত এবং তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আওয়ামী লিগের বাইরে থাকা মানুষকে কাছে টানতেই হাসিনা শুধু শেখ মুজিবকে স্মরণ করেননি তাঁর ভাষণের কথা ও ভঙ্গিমাও রপ্ত করেছেন। কারণ, আওয়ামী লিগের বাইরে বহু মানুষ এখনও শেখ মুজিবকে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মনে করেন। মনে করেন, তিনি ছিলেন বলেই বাঙালি নিজেদের দেশ পেয়েছিল।
আওয়ামী লিগ নেত্রী ৫ অগাস্টের পর এখনও প্রকাশ্যে আসেননি। ভার্চুয়াল ভাষণেও তাঁকে দেখা যায় না। শুধুই কণ্ঠ প্রচার করা হয়। তবে সোমবারের ভাষণে শব্দ প্রক্ষেপণে ছিল বাবা শেখ মুজিবের মেজাজ, যা থেকে বোঝা গিয়েছে চোয়াল শক্ত করে ভাষণ দিচ্ছিলেন।
১৯৭১-এর ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স তথা আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘সাত কোটি মানুষকে আর দাবায়ে রাখতে পারবা না। বাঙ্গালি মরতে শিখেছে, তাদের কেউ দাবাতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ হাসিনার সোমবার গভীর রাতের ভাষণ শুনে অনেকেরই ৫৪ বছর আগে মুজিবের সেই অমর কথাগুলি মনে পড়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনসেকো হেরিটেজ ভাষণ ঘোষণা করে সংরক্ষণ করেছে।
আওয়ামী লিগ নেত্রীর ভাষণে আরও একটি দিক ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। সোমবারের ভার্চুয়াল সভায় তিনি মহম্মদ ইউনুসের পাশাপাশি বিএনপি-জামাতকেও সমানতালে আক্রমণ শানিয়েছেন। নিশানা করেছেন খালেদা জিয়াকেও। বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা ১৯৯৬ সালের নির্বাচন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর এক-দেড় মাসের মাথায় ভোট চুরির অভিযোগে উত্তাল আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
সোমবারের ভাষণে হাসিনা প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির লম্বা তালিকা পেশ করেন। বলেন, ১৯৯৩ সালে মাসে ছয় হাজার টাকা বেতনের চাকরি করা ব্যক্তির ব্যাঙ্ক ব্যালান্স কয়েক শো কোটি টাকা। কোথা থেকে এত টাকা পেলেন? বলেন, ইউনুস বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন।