উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির লাগোয়া চিকেন নেক (Chicken Neck) বা শরু ভূখণ্ডের নিরাপত্তা জোরদার করতেই পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটিগুলি সচল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শেষ আপডেট: 13 January 2026 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ লাগোয়া পাঁচটি পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটি সচল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী (Indian Airforce)। এগুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (2nd Worldwar) পর থেকে সেভাবে ব্যবহার করা হয়নি। এই পাঁচ বিমানঘাঁটি পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমে অবস্থিত। এই তিন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্ত (Bangladesh Bordar) লাগোয়া সেনা ঘাঁটিগুলিও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার।
সরকারি সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির লাগোয়া চিকেন নেক (Chicken Neck) বা শরু ভূখণ্ডের নিরাপত্তা জোরদার করতেই পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটিগুলি সচল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর।
এই বিমান ঘাঁটিগুলি হল জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালিহালিয়া, অসমের ধুবড়ি। এরমধ্যে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া পশ্চিমবঙ্গের বিমান ঘাঁটি গুলি রাজ্য সরকারকে হস্তান্তর করেছিল অসামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার পরিষেবা চালুর জন্য। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারত সরকার সেগুলি পুনরায় বিমান বাহিনীর হাতে তুলে দিতে চায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ১৯৭১ এ ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এই বিমান ঘাঁটিগুলি সামান্য ব্যবহার হয়েছিল। তখন মূলত যুদ্ধের সামগ্রী সরবরাহের জন্য পণ্যবাহী বিমান উঠানামা করত এই বিমানবন্দর গুলিতে। ১৯৭১ এর পর সেই প্রয়োজনও ফুরিয়ে যায়। এখন পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে নতুন করে আকাশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে ভারত। শুধু বিমান ঘাঁটি নয়, পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জ বিহারের কিশানগঞ্জ এবং অসমের ধুবড়িতে নতুন সেনা ক্যান্টনমেন্ট তৈরি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এছাড়া অসমে বেশ কয়েকটি পরিত্যাক্ত বিমান ঘাঁটিও বিমান বাহিনী পুনরায় সচল করেছে।
জানা যাচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আচমকা অবনতি হওয়ায় ভারত সরকার ও উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। এই ব্যাপারে সরকারি তৎপরতা উসকে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের দুটি পরিত্যাক্ত বিমান ঘাঁটি পুনরায় চালু করার খবর আসার পর। এ দুটির একটি হল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে জেলা লালমনিরহাট এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় অবস্থিত দুটি সামরিক বিমান ঘাঁটি। এর মধ্যে লালমনিরহাটের বিমান ঘাঁটিটি আয়তনে এশিয়ার বৃহত্তম। সেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৭১ এর ভারত-পাক যুদ্ধের সময় পাকিস্তান বিমান বাহিনীও ওই বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করে। তারপর থেকে লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটি অচল। ঠাকুরগাঁওয়ের বিমান ঘাঁটিও বহুদিন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ব্যবহার করেনি। সেটিও সচল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সেনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্ত লাগুয়া বিমান ঘাঁটি এবং সেনা ছাউনি গুলি শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ত্রিপুরাতেও একটি বিমান ঘাঁটি নতুন করে সচল করার তোড়জোড় শুরু করেছে ভারতীয় বিমান বাহিনী।