প্রথম ভাষণে সিন্ডিকেট রাজ ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারেক। কিন্তু তাঁর পরিবহন মন্ত্রী রবিউল আলম চাঁদাবাজিকে ‘বোঝাপড়া’ বলায় সমাজ মাধ্যমে তীব্র জনরোষ ছড়িয়েছে।

শেখ রবিউল আলম
শেষ আপডেট: 20 February 2026 11:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম টেলিভিশন ভাষণে তারেক রহমান গুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার অন্যতম হল, সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিন্ডিকেট রাজের অবসান। বলেছেন কোথাও আর সিন্ডিকেটরা চলতে দেওয়া হবে না।
কিন্তু তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা রেল সড়ক ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ভিন্ন কথা বলেছেন। বাংলাদেশের সড়ক ও নৌ পরিবহনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল চাঁদাবাজি বা তোলাবাজি। এ নিয়ে শত শত সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে দেশটিতে।
কিন্তু নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এই অবৈধ ব্যবস্থাকে চাঁদাবাজি বলতে রাজি নন। তিনি বলেছেন এটা মালিকেরা বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দিয়ে থাকেন। সেই অর্থ পরিবহন শ্রমিকদের কল্যাণে খরচ করা হয়।
মন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে বাংলাদেশে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। সমাজ মাধ্যমে রীতিমতো আক্রমণের মুখে পড়েছেন নতুন মন্ত্রী। কারণ বাংলাদেশে সড়ক ও নৌ পরিবহনে চাঁদাবাজির দ্বারা আক্রান্ত হননি এমন মানুষ খুঁজে বের করা মুশকিল। বিপুল টাকা চাঁদা দিতে গিয়ে পরিবহন মালিকেরা ভাড়া এতটাই বাড়াতে বাধ্য হন যে বহু মানুষের যাতায়াত বন্ধ করে দিতে হয়েছে। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঢাকা সহ বিভিন্ন বড় শহরগুলি থেকে গ্রামমুখী মানুষকে তুমুল হেনস্থার মুখে পড়তে হয় ভাড়া মেটাতে গিয়ে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ গ্রামের সংস্থাটি বছরখানেক আগে এক জরিপে দেখিয়েছে যে হাজার কোটি টাকার উপর চাঁদাবাজি করে তোলা হয় পরিবহন খাত থেকে। এই টাকা গুনতে হয় সাধারণ মানুষকে।
কিন্তু নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর ব্যাখ্যা, জবরদস্তি করা হলে তবেই সেটাকে চাঁদাবাজি বলা যেতে পারে। কিন্তু পরিবহন খাতে এই লেনদেন আসলে বোঝাপড়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের সড়ক ও নৌ পরিবহনে আবার সিংহভাগ রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের দখলে। একাধিক পরিবহন সংস্থার মালিক রাজনৈতিক নেতারা। জমানা বদলের সঙ্গে সঙ্গে হাত বদল হয় সিন্ডিকেটের। শেখ হাসিনার জমানায় সিন্ডিকেট গুলি ছিল সব আওয়ামী লিগ নেতাদের দখলে। ২০২৪ এর ৫ অগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর অধিকাংশ সিন্ডিকেট দখল করে বিএনপি। কোথাও কোথাও সিন্ডিকেটের নেতাদের বাড়াবাড়ির কারণে দলকে গুরুতর অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হয়। প্রায় ছয় হাজার নেতাকর্মীকে বিএনপি গত দেড় বছরে বহিষ্কার করে সিন্ডিকেট রাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায়। তারপরও নতুন মন্ত্রী কেন চাঁদাবাজির অভিযোগকে লঘু করলেন তা নিয়ে জোর বিভাগ শুরু হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা যাত্রা শুরু করার মাত্র দুদিনের মাথায় রেল সড়ক ও নৌ পরিবহন মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে সমাজ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। কোন কোন মহলের ব্যাখ্যা সিন্ডিকেট গুলি বিএনপি নেতাদের দখলে থাকাতেই নতুন মন্ত্রী দলের অংক বিবেচনায় রেখেই বিষয়টিকে শুরুতেই লঘু করে দেখিয়েছেন। আর তাতেই মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই তীব্র জন-সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা ১০ আসনের বিএনপি সাংসদ রবিউল আলম।