ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর চিঠির এই বক্তব্য অনেকেই বিস্মিত করেছে। বিশেষ করে শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি যেভাবে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন এবং অস্ত্র কেনার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তা কূটনৈতিক রুচি ও রীতি সম্মত নয় বলে অনেকে মনে করছেন।

শেষ আপডেট: 19 February 2026 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি দু দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, তা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করেন, তারেক রহমান তাঁর মেয়াদ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্কের অসাধারণ গতি বজায় রাখতে সহায়তা করবেন, যা উভয় দেশের কৃষক এবং শ্রমিকদের জন্য উপকারী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমি আশা করি আপনি নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলি সম্পন্ন করার জন্য সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেবেন যা অবশেষে আপনার সামরিক বাহিনীকে আমেরিকার তৈরি উচ্চমানের বিশ্ব সেরা সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ দেবে!'
ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর চিঠির এই বক্তব্য অনেকেই বিস্মিত করেছে। বিশেষ করে শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি যেভাবে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন এবং অস্ত্র কেনার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তা কূটনৈতিক রুচি ও রীতি সম্মত নয় বলে অনেকে মনে করছেন।
আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে আগেই। ওই চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তারেক রহমানের সরকারের বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি তখন ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। বারেক রহমান তাকে টেকনোক্র্যাট কোথায় মন্ত্রী করে বিদেশ মন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়েছেন। যদিও মাসকয়েক আগেই বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মোহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে খলিলুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করেছিল। তারেক রহমানের পার্টির অভিযোগ ছিল খলিলুর রহমান মোটেই বাংলাদেশে নাগরিক নন। তিনি আসলে মার্কিন নাগরিক। এমন ব্যক্তিকে বিদেশ মন্ত্রী দায়িত্ব দেওয়া দেশের অখন্ডতা ও নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিএনপি তখন প্রতিক্রিয়া দেয়। সেই ব্যক্তি কি করে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার বিদেশ মন্ত্রী হলেন তা নিয়ে বাংলাদেশে যথেষ্ট জল্পনা আছে। বিএনপিরও অনেকেই এ নিয়ে বিস্মিত।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেই আমেরিকার সঙ্গে অশোকেনা নিয়েও বাংলাদেশের বড় চুক্তি হয়েছিল। তারেক রহমানকে পাঠানোর শুভেচ্ছা বার্তায় অস্ত্র কেনার বিষয়টিও স্ট্যাম্প মনে করিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন আমেরিকার অস্ত্র বিশ্বসেরা। মার্কিন অস্ত্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য যথেষ্ট উপযোগী হবে।