বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কনভয় ১৪ থেকে কমিয়ে ৪ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে প্রশাসনে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 18 February 2026 22:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন না। ব্যবহার করবেন ব্যক্তিগত গাড়ি। মঙ্গলবার বিকালে শপথ গ্রহণের পর কিছু সময়ের জন্য তিনি বাংলাদেশের পতাকা লাগানো সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেছিলেন।
কিন্তু বুধবার সকালে তিনি ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যান তার ব্যক্তিগত টয়োটায় চেপে। এখান থেকে ঢাকায় সচিবালয়ে তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন। তাঁর আগে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় তাঁর পিতা প্রয়াত জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এই সময় তাঁকে ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়তে দেখা যায়।
পরে বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয়ের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি ব্যক্তিগত গাড়িতেই চলাফেরা করবেন এবং গাড়ির জ্বালানি খরচও তিনি বহন করবেন। এর জন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে তিনি কোন খরচ নেবেন না।
তারেক রহমানের তরফে আরো কয়েকটি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে সর্ব প্রশাসনকে। বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর বা কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ১৪ থেকে কমিয়ে চার করে দিতে হবে। বুধবারই সেই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। তারেক রহমান চার গাড়ির কনভয় নিয়ে সাভারে যান এবং ঢাকাতেও ঘোরার চলাফেরা করেন চার গাড়ির কনভয় নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তার যাতায়াতের জন্য সাধারণ মানুষের কোন দুর্ভোগ হোক এটা তিনি চান না। সেইমতো তার যাত্রাপথে সাদা পোশাকের পুলিশ যেভাবে এক দু ঘন্টা আগে দাঁড়িয়ে থেকে সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে এবং যাতায়াত বন্ধ করে দেন সে বিষয়ে তারেক রহমান বলেছেন এগুলি করা যাবে না। নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমার যাত্রা পথ সুগম করার জন্য কোন নাগরিকের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি করা যাবে না। অতএব পুলিশ প্রশাসনকে সেই ভাবেই আমার যাতায়াতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত করতে হবে। নাগরিক হেনস্থা আমি কোনভাবেই বরদাস্ত করব না।
তারেক রহমানের এই পরামর্শ বা নির্দেশ ঘিরে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুধু নন তার পরিবারের সদস্যদের জন্যও বুলেটপ্রুফ গাড়ি সরকারের তরফে বরাদ্দ করা আছে। প্রধানমন্ত্রী সেই গাড়ি ব্যবহার না করলে তাঁর নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। তিনি যেভাবে তার গাড়ির কনভয় ছোট করতে বলেছেন তা নিয়েও নিরাপত্তা কর্তারা বিচলিত। প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে এনেছে বা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি, মিলিটারি গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি এবং ঢাকায় থাকলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বাহিনীর গাড়ি কনভয় থাকে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে থাকে তার চিকিৎসক দলের গাড়ি এবং দমকল।
বাংলাদেশ সরকারের এক পদস্থ কর্তা জানান নতুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ তারা অক্ষরে অক্ষরে আপাতত পালন করবেন সেই মতো অতিরিক্ত নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায় সেই ব্যাপারেও তারা চিন্তা ভাবনা শুরু করেছেন। এক কর্তা বলেন আমরা ড্রোনের ওপরে অনেক বেশি জোর দেব অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথের গোটাটাই ড্রোন নজরদারি অনেক জোরালো থাকবে। কনভয়ের উপরেই ড্রোনের নজরদারি চালানো সম্ভব। সেই রকম প্রযুক্তি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আছে।
জনভোগান্তি কমাতে তারেক রহমান আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ঠিক করেছেন মন্ত্রিসভার বৈঠক বা একাধিক মন্ত্রী কে নিয়ে কোন আলোচনা তিনি নিজের দপ্তরে করবেন না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সচিবালয় চলে যাবেন। কারণ মন্ত্রীদের তার দপ্তরে ডাকলে পরে ঢাকায় একাধিক মন্ত্রীর একসঙ্গে যাত্রার ফলে যানজট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন মন্ত্রীদের যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হোক এটা তিনি চান না। এখন পুলিশ প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কীভাবে তারা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে পারেন।
বাংলাদেশে এখন প্রধানমন্ত্রীর জন্য কোন নির্দিষ্ট বাসভবন নেই। গণভবন ছিল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন। ২০২৪ এর ৫ অগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর গণভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকার সেখানে জুলাই সংগ্রহশালা তৈরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মো
মহম্মদ ইউনুস থাকতেন সরকারি অতিথি ছাড়া যমুনায়। এখনো পর্যন্ত ঠিক আছে ইউনুস ওই বাড়ি ছেড়ে দিলে তারেক রহমান সেখানে গিয়ে উঠবেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাড়িটি প্রস্তুত করতে সময় লাগবে। ততদিন পর্যন্ত তারেক রহমান তার গুলশানের বাড়িতে থাকবেন বলে আপাতত ঠিক আছে। বুধবার ওই বাড়ি থেকে বেরিয়েই তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যান।