ট্রাবুনালের রায় ঘোষণার আগে অন্তর্বর্তী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন শেখ হাসিনা। অভিযোগ করলেন, ‘জুলাইয়ের অপরাধীদের নায়ক বানানো হচ্ছে’, পাশাপাশি নিজের বিরুদ্ধে চলা মামলাকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলেও দাবি করলেন।

শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 17 November 2025 08:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (ICT Verdict) রায় ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঠিক তার আগেই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Seikh Hasina) ভার্চুয়াল মাধ্য়মে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখলেন। তিনি দাবি করলেন, পুরো বিচারপ্রক্রিয়া ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ এবং আইনসম্মত কোনও নিয়মই এতে মানা হয়নি।
হাসিনার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের (Bangladesh Interim Government) বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ ইউনুস (MD Yunus) এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা ‘মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ এই মামলায় তাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং প্রাক্তন পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। অভিযোগ, ২০২৪ সালের সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা ঘিরে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভ চলাকালীন খুন, খুনের চেষ্টা, নির্যাতন-সহ একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন তাঁরা (Bangladesh Unrest)।
বক্তৃতায় হাসিনা সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'দেশজুড়ে লকডাউন নিশ্চিত করতে হবে। সহিংসতা এবং ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করা যাবে না।' অভিযোগ করেন, গত বছরের বিক্ষোভের পর ইউনুসের সমর্থকরা সাধারণ নাগরিককে হত্যা করেছে, আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে।
তাই হাসিনার দাবি, আওয়ামী লিগ সরকারের সময়ে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অত্যাচার মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রণয়ন হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে ‘জুলাইয়ের অপরাধীদের নায়ক বানানো হয়েছে।’
ভিডিও বার্তায় হাসিনা ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলে তিনি রাজনীতিতে ফিরতে পারেন (Bangladesh Politics)। তবে সেই সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দেশের রাজনৈতিক আবহাওয়ার উপর। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট দেশ যখন উত্তাল, আন্দোলনে মুখর, তখন দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তাঁর দাবি, ‘স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ না হলে দেশে ফিরবেন না। সব বড় দল, বিশেষ করে আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
হাসিনার অভিযোগ, তাঁকে অপসারণের পেছনে ছিল একটি সংগঠিত ষড়যন্ত্র। বলেন, 'ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে সহিংস গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে, সামরিক মানের অস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সমন্বিত অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়। ঢাকায় থাকলে রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল।'
অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে আক্রমণ করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, 'ইউনুস-নেতৃত্বাধীন সরকার অনির্বাচিত, অবৈধ এবং দেশে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, সংবিধান লঙ্ঘন এবং উগ্রপন্থী যোগ রয়েছে এমন অনেককে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। দেশের স্থিতি ফিরবে কেবল তখনই, যখন জনগণের রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহাল হবে।'
ভারত থেকে হাসিনা পাকিস্তানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সাম্প্রতিক সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগকে তিনি ‘আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা’ বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান ১৯৭১ সালের নৃশংসতার জন্য ক্ষমা না চাইলেও ইউনুস সরকার ইতিহাস ‘নতুন করে লেখার চেষ্টা’ করছে।
এদিকে, আইসিটি-র রায়ের আগে ঢাকা-সহ বাংলাদেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে। অগ্নিসংযোগ এবং বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। বহু মহলের মতে, ট্রাইবুনালের রায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।