আগামীকাল সোমবার শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পরিস্থিতির মোকাবিলায় দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলি। রবিবার ওয়ারলেস এ পুলিশ কমিশনারের এই বার্তা প্রচার করা হয়।

আগামীকাল সোমবার শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণা
শেষ আপডেট: 16 November 2025 20:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামীকাল সোমবার শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পরিস্থিতির মোকাবিলায় দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলি। রবিবার ওয়ারলেস এ পুলিশ কমিশনারের এই বার্তা প্রচার করা হয়।
পরে পুলিশ কমিশনার তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, আত্মরক্ষার্থে পুলিশের গুলি চালানোর অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশের ফৌজদারি দন্ডবিধিতে পুলিশকে আত্মরক্ষার্থে মারণাস্ত্র ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ কমিশনারের এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এবং স্বরাষ্ট উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নির্দেশ বা পরামর্শে বাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন? সোমবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মোর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চের রায় ঘোষণা করার কথা তার মধ্যে একটি হলো, হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন গণঅভ্যুত্থান মোকাবিলায় পুলিশকে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও আদালতে সরকারপক্ষ এর স্বপক্ষে জোরালো কোন নথি পেশ করতে পারেনি। বাংলাদেশ পুলিশের তৎকালীন আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন এই একই মামলায় অভিযুক্ত। তিনি রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইবুনালে দাবি করেছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তাঁদেরকে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের দমনে গুলি চালাতে।
হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামাল ট্রাইবুনালের ওই বিচারকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে শুনানি বয়কট করেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনেই দাবি করেছেন তারা কেউই পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি। দুজনেই বলেছেন এই ব্যাপারে পুলিশকে কোন নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ফৌজদারি দন্ডবিধিতেই বলা আছে কোন পরিস্থিতিতে পুলিশ গুলি চালাতে পারে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল দাবি করেছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস আটকাতে পুলিশকে কিছু জায়গায় কঠোর পদক্ষেপ করতে হয়। এছাড়া আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল। রবিবার দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া সম্পর্কে ঢাকার বর্তমান পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলি আত্মরক্ষার কথাকেই ঢাল করেছেন। স্বভাবতই এটা পরিষ্কার গুলি চালানোর জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন পড়ে না পুলিশের।
রবিবার ও সোমবার গোটা বাংলাদেশে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছে আওয়ামী লিগ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তারা ঢাকায় লকডাউন পালন করে। ১০ নভেম্বর থেকে রাজপথে নানা কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লিগ। ১০ নভেম্বর থেকেই ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসে, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর ইত্যাদি ঘটনা ঘটে চলেছে।
পুলিশের অভিযোগ এইসব নাশকতার সঙ্গে আওয়ামী লিগ জড়িত। রবিবারই ওই দলের ৫৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা ও ঢাকা মহানগর পুলিশ।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, সোমবার হাসিনার সাজা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রবিবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রায় নিয়ে দেশে একটা চরম অনিশ্চিয়তা, একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। একটা মহল এটা নিয়ে বাংলাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।' এরপরই ঢাকার পুলিশ কমিশনার ওয়ারলেসে বাহিনীকে নির্দেশ দেন, প্রয়োজনে দেখামাত্র গুলি চালাতে হবে।
এই প্রসঙ্গে আওয়ামী লিগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন রবিবার বলেন, ইউনুস প্রশাসন আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। লকডাউন কর্মসূচি সফল হওয়ার পর ইউনুস সরকার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। তারা এবার শাটডাউন আটকাতে মরিয়া। কিন্তু গুলি চালানোর কথা বলে আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো যাবে না। জীবন বাজি দেখে তাঁরা লড়াই করতে পারেন ইতিমধ্যে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। আমরা আশা করি, নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধ ইউনুস সরকারের বেআইনি ট্রাইব্যুনালের রায় বাংলাদেশের মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবেন।
অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের ঘটনার মোকাবিলায় এর আগে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি এমনকী প্রয়োজনে মেশিনগান থেকে লাগাতার গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেন। ১০ তারিখ থেকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের একাংশ মেশিনগান হাতে ডিউটি করছে। চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের ওই নির্দেশ ঘিরে তুমুল বিতর্ক চলছে বাংলাদেশ। একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন পুলিশকর্তার ওই নির্দেশকে মানবাধিকার বিরোধী বলে উল্লেখ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ কমিশনার সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই এবার ঢাকা পুলিশ কমিশনারও দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ জারি করেছেন। ওয়ারলেস বার্তায় তিনি বলেছেন, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হলে কেউ যেন পালিয়ে না যেতে পারে। প্রয়োজনে গুলি করে তাকে থামাতে হবে। পরে এই ব্যাপারে পুলিশ কমিশনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন ফৌজদারী দন্ডবিধিতে পুলিশের আত্মরক্ষায় গুলি চালানোর অধিকার রয়েছে। যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে এরকম পদক্ষেপ ছাড়া উপায় নেই।