আগামীকাল সোমবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করার কথা। এর কয়েক ঘন্টা আগে রবিবার বিকালে বিএনপি'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসিনার রায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায় বিচার দাবি করলেন।

শেখ হাসিনা ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
শেষ আপডেট: 16 November 2025 19:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামীকাল সোমবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করার কথা। এর কয়েক ঘন্টা আগে রবিবার বিকালে বিএনপি'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসিনার রায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায় বিচার দাবি করলেন।
ফেসবুকে বিএনপি'র এই প্রবীণ নেতা লিখেছেন, 'আগামীকাল (১৭ নভেম্বর) বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে। যেখানে গত বছরের ঢাকায় সংঘটিত প্রাণঘাতী সহিংসতা ও দমন-পীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা পূর্ণ ন্যায়বিচার দাবি করছি!'
বিএনপি নেতার এই পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। এই মামলায় ইউনু সরকার শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। সেই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আর্জি জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী। চিফ প্রসিডিউটার তাজুল ইসলাম আদালতে বলেছেন গণঅভুত্থান দমনে হাসিনা সরকারের সময় ১৪০০ মানুষ খুন হয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে। শেখ হাসিনার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড চলে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তাই চৌদ্দশবার ফাঁসি হওয়া উচিত।
রায় ঘোষণার কয়েক ঘন্টা আগে বিএনপি নেতা স্বচ্ছতা ও ন্যায় বিচার দাবি করে আসলে হাসিনার করা সাজা দাবি করলেন নাকি কঠোর না হতে আদালতকে বার্তা দিয়েছেন তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। দিন চারেক আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার নির্বাচনী কেন্দ্র ঠাকুরগাঁয়ে বিএনপি সভায় বলেছিলেন আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং দমন প্রেরণমূলক মামলা হয়ে থাকলে ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের সরকার সেগুলি প্রত্যাহার করে নেবে। আওয়ামী লীগের সময় যেভাবে বিএনপিকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে তাঁরা সেই পথে হাঁটবেন না বলে ফখরুল প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন।
তবে কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি সেই বক্তব্য গিলে নেন। দলের মধ্যে অসন্তোষের মুখে তিনি বলেন যে তার কথা বিকৃত করা হয়েছে। তিনি আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের কথা কখনোই বলেননি। সামগ্রিকভাবে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা না করার পক্ষে কথা বলেছেন।
রবিবার হাসিনা সাজা নিয়ে আগাম ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করে বিএনপি'র এই প্রথম সারির নেতা আসলে আগাম কঠোর সাজার পক্ষে সমান করেছেন কিনা সেই প্রশ্ন নিয়ে চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে যদিও নিজের বক্তব্যের কোন ব্যাখ্যা দেননি ফখরুল। আওয়ামী লিগও বিএনপি নেতার এই বক্তব্যকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারা মনে করছে বিএনপি সর্বতোভাবে সরকারের পাশে থাকার চেষ্টা করবে। ফখরুল আসলে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছেন। আমি মনে করছেন এই জাতীয় মন্তব্য করে আওয়ামী লিগ সমর্থকদের মন জয় করবেন। কিন্তু আসল জায়গায় বিএনপি আওয়ামী লিগের তীব্র বিরোধিতা করে চলেছে। দীর্ঘ সময় তারা রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার বিরোধিতা করলেও আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিয়ে ইউনুস সরকারের সিদ্ধান্তে পাশে দাঁড়িয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বয়ং এই ব্যাপারে সরকারকে পূর্ণ সমর্থন জানান। ইউনুস সরকার গত ১২ মে সন্ত্রাস দমন আইনে আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।