বিগত কয়েক দিনের মতো বুধবারও রাতভর পুলিশ ও সেনার যৌথ বাহিনী আওয়ামী লিগের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘর, ব্যবসা কেন্দ্র ইত্যাদিতে হানা দেয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 November 2025 07:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার দিন তারিখ জানাবে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (Dhaka)। তার ঘন্টা তিনেক আগে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার জনজীবন অনেকটাই অচল। বুধবার দুপুরের পর থেকে যান চলাচল কমতে শুরু করেছিল। সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরে যান সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার সকালের চিত্র হল অন্যান্য দিনের তুলনায় ঢাকার রাস্তায় যানবাহন কম। পথচারীও তুলনামূলকভাবে অনেক কম। শহরের বহু জায়গায় দোকান বাজার খোলেনি। বন্ধ আছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এই পরিস্থিতিতে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে ঢাকার দখল নিয়েছে পুলিশ (Bangladesh Police) এবং সেনার যৌথ বাহিনী (Army)। ঢাকার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের সংযোগকারী রাস্তার মুখে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এই সমস্ত রাস্তা অচল করে দিয়ে ঢাকাকে অবরুদ্ধ করা আওয়ামী লিগের কর্মসূচি। বিগত কয়েক দিনের মতো বুধবারও রাতভর পুলিশ ও সেনার যৌথ বাহিনী আওয়ামী লিগের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘর, ব্যবসা কেন্দ্র ইত্যাদিতে হানা দেয়। গত কয়েকদিনে সাবেক শাসকদলের হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

অন্যদিকে লকডাউন (Lockdown) সফল করতে বুধবার রাতে আরও একটি ভিডিও বার্তায় আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লিগ নেত্রী (Awami League) শেখ হাসিনা। তিনি সমগ্র দেশবাসীর উদ্দেশে আরজি জানিয়েছেন লকডাউন সফল করে ইউনুস সরকারের (Yunus Govt) পতন ত্বরান্বিত করতে। তাঁর বক্তব্য বাংলাদেশের স্বার্থেই ইউনুস সরকারকে অবিলম্বে বিদায় দেওয়া দরকার।
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন আন্দোলন দমনে তিনি মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন বলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছে। সেই মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে সরকার পক্ষ। বৃহস্পতিবার ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মোর্তূজা মজুমদার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চলমান মামলায় রায় ঘোষণার দিন তারিখ জানাবেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত অপর দু'জন হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ এক বিবৃতিতে বলেছে তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে অবৈধ দখলদার খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনুস গং চক্রান্তমূলকভাবে বাংলাদেশের জনগণকে একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অবৈধ দখলদাররা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর থেকে সারা দেশে খুন, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি বেড়ে চলেছে। মব, সন্ত্রাসের মতো এক অভিনব গোষ্ঠীগত সন্ত্রাসের উদ্ভব ঘটেছে। রাষ্ট্র যখন সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক এবং জনগণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী আচরণ করে তখন সেখানে সভ্য ও আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মতো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বলতে কিছু থাকে না। যে কারণে আইনের পোশাক জড়িয়ে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব নিয় চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার ব্রাশ ফায়ারের কথা অবলীলায় বলতে পারেন। কেননা জনগণের ম্যান্ডেটহীন অবৈধ দখলদারদের টিকে থাকার উপায়ই হচ্ছে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভয় দেখানো। আর সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে তারই প্রতিফলন ঘটছে।