ফরিদাবাদে ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক রাসায়নিক উদ্ধার এবং সারাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা লুকিয়ে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, স্থান পরিবর্তন বা বিস্ফোরক সরানোর সময়ই গাড়ির ভিতরে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে গেছে।

দিল্লি বিস্ফোরণ (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 12 November 2025 07:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লাল কেল্লার কাছে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণে (Delhi Red Fort Blast) ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, তদন্তে জানা গেছে সেটি আসলে পরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা (Suicidal Bomb) নয়। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, সন্দেহভাজনরা আতঙ্কে ভুল করে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেলেছিল। হরিয়ানায় জঙ্গি সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার পর তারা পালানোর চেষ্টা করছিল। সেই সময়ই ভুলবশত তাদের গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে যায়।
সোমবার বিকেলে লাল কেল্লার মেট্রো স্টেশনের এক নং গেটের কাছে পার্কিংয়ের পাশের রাস্তায় একটি সাদা হুন্ডাই i20 গাড়িতে বিস্ফোরণ (Delhi Blast) ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় একাধিকের, রাস্তায় দেহাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়। আশেপাশের দোকানগুলির দরজার কাঁচ ভেঙে যায়। তবুও তদন্তে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের শক্তি প্রত্যাশিত মতো বেশি ছিল না, কারণ বিস্ফোরকগুলি ঠিকভাবে বানানোই ছিল না।
প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, গাড়িতে থাকা সন্দেহভাজনরা আতঙ্কে ভুল করে বিস্ফোরক সক্রিয় করে ফেলেছিল। ফরিদাবাদে ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক রাসায়নিক উদ্ধার এবং সারাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা লুকিয়ে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, স্থান পরিবর্তন বা বিস্ফোরক সরানোর সময়ই গাড়ির ভিতরে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে গেছে।
ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে দেখা গেছে (Delhi Blast Investigation), সেখানে কোনও গর্ত বা ধাতব টুকরো ছড়িয়ে ছিল না, যা সাধারণত শক্তিশালী বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এই তথ্য থেকেই তদন্তকারীরা বুঝেছেন, এটি দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ, ইচ্ছাকৃত বা আত্মঘাতী হামলা নয়।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও খবর, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের চিকিৎসক উমর নবি। তিন দিন আগেই তিনি গা ঢাকা দিতে নিজের ফোন বন্ধ করে দেন, কারও সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। আরও কয়েকজন অভিযুক্ত, যাদের আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে, তারাও পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। তদন্তকারীদের অনুমান, ‘ডাক্তার’ পরিচয়টিই ছিল তাদের আসল পরিচয় আড়াল করার কৌশল।
গোয়েন্দা সংস্থার মতে, দেশজুড়ে একযোগে অভিযান চালানোয় আরও বড় নাশকতা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। লাল কেল্লার বিস্ফোরণটি হয়তো তাদের পরিকল্পনার অংশ ছিল, কিন্তু আতঙ্ক আর ভুলের কারণে বিস্ফোরক আগেভাগেই ফেটে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পরিণত হয়েছে।