মঙ্গলবার পুলওয়ামা থেকে আরও এক চিকিৎসক সাজাদ আহমেদ মোল্লাকে শ্রীনগর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা খুঁটিনাটি তথ্য খতিয়ে দেখছে। সংগ্রহ করা হয়েছে এক হাজারের বেশি সিসি ফুটেজ।

দিল্লিতে বিস্ফোরণ!
শেষ আপডেট: 11 November 2025 14:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে (Delhi Blast) শুরু হয়েছে ধরপাকড়। এখনও পর্যন্ত ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯। সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বেলায় পুলওয়ামা থেকে আরও এক চিকিৎসক সাজাদ আহমেদ মোল্লাকে শ্রীনগর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা খুঁটিনাটি তথ্য খতিয়ে দেখছে। সংগ্রহ করা হয়েছে এক হাজারের বেশি সিসি ফুটেজ।
সাজাদ আহমেদ পুলওয়ামের (Pulwama) বাসিন্দা এবং ধৃত উমর আদিলের বন্ধু বলে জানা গেছে। টেলিগ্রামের মাধ্যমেই দুজনে যোগাযোগ রাখছিল। টেলিগ্রামে গ্রুপ তৈরি করে তথ্যের আদানপ্রদান চলছিল। সেই গ্রুপের নাম ছিল 'র্যাডিক্যালাইজ ডক্টর'। কখন, কোথায় দেখা হবে, কী কী জিনিসের দেওয়া নেওয়া হবে- এই সব আলোচনা সাংকেতিক ভাষায় করা হত।
দিল্লির লালকেল্লা (Delhi Red Fort) সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে চিকিৎসক ডাঃ উমর মহম্মদকেই এখন ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করছেন তদন্তকারীরা। ওই বিস্ফোরণে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা এই চিকিৎসক একটি বৃহত্তর সন্ত্রাস মডিউলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা সম্প্রতি বহু-রাজ্যের পুলিশি অভিযানের ফলে সামনে এসেছে। আর এই ঘটনায় সম্ভবত তাঁরও মৃত্যু হয়েছে। দেহ উদ্ধার হয়েছে কি না বা তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা গেছে কি না, সেবিষয়ে গোয়েন্দা তরফে কিছু জানা যায়নি।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, সোমবার রাতে লাল কেল্লার (Delhi Red Fort Blast) কাছে যে সাদা রঙের গাড়িটিতে বিস্ফোরণ হয়, সেটি চালাচ্ছিলেন উমর নিজেই। তদন্তে অনুমান, বিস্ফোরণে তিনি নিজেও প্রাণ হারান। ফরিদাবাদ-ভিত্তিক একটি সন্ত্রাস মডিউলের সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এই মডিউলটিকে 'হোয়াইট কলার টেরর মডিউল' নামে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
সূত্রের দাবি, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর যোগ পাওয়া গিয়েছে। লাল কেল্লার মতো পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় হামলার উদ্দেশ্য ছিল বড়সড় নাশকতা ঘটানো।
এই ঘটনার পরই জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় উমরের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, তাঁদের ধারণা ছিল উমর শুধুমাত্র পড়াশোনায় মনোযোগী একজন চিকিৎসক। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম, এখন ও কিছু করবে আমাদের জন্য। ও-ই ছিল ভরসা। বড় ডাক্তার হলে দারিদ্র কিছুটা কমত।'
জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব এখনও চলছে। এর মধ্যেই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাজাদ আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিস্ফোরণকাণ্ডে আইবি, এনআইএ, এনএসজি একযোগে তদন্ত করছে। এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে ‘জঙ্গি হামলা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি, তবে পুলিশ ইতিমধ্যেই ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট’ (UAPA)–এর আওতায় মামলা দায়ের করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছেন, 'সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।' তদন্তকারীরা জানতে চাইছে, এটি কি আত্মঘাতী হামলা (Suicide Attack) ছিল? আদিল ও মুজাম্মিলের গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার হওয়ার পর উমর আতঙ্কে পড়েছিলেন কি না, তা নিয়েও চলছে অনুসন্ধান। সন্দেহ, ভয় এবং হতাশার চাপে পড়ে তিনি হয়তো আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান।
গতকাল বিস্ফোরণের পরই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে দিল্লিকে। জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। এছাড়াও দেশের অন্যান্য বড় শহর যেমন- কলকাতা, উত্তরপ্রদেশ, মুম্বইতে চলছে নাকা চেকিং। মেট্রো স্টেশন ও ভিড় এলাকাগুলিতে তল্লাশি চলছে।