দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন গাড়ি বিস্ফোরণে নতুন মোড়। তদন্তকারীদের দাবি, পুলওয়ামার চিকিৎসক উমর মহম্মদই এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত। ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণে তিনিও প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় জইশ-ই-মহম্মদের ‘হোয়াইট কলার’ মডিউলের যোগ পাওয়া গেছে।

ওই চিকিৎসক
শেষ আপডেট: 11 November 2025 13:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লাল কেল্লা সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে চিকিৎসক ডাঃ উমর মহম্মদকেই এখন ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করছেন তদন্তকারীরা। ওই বিস্ফোরণে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা এই চিকিৎসক একটি বৃহত্তর সন্ত্রাস মডিউলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা সম্প্রতি বহু-রাজ্যের পুলিশি অভিযানের ফলে সামনে এসেছে। আর এই ঘটনায় সম্ভবত তাঁরও মৃত্যু হয়েছে। দেহ উদ্ধার হয়েছে কি না বা তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা গেছে কি না, সেবিষয়ে গোয়েন্দা তরফে কিছু জানা যায়নি।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, সোমবার রাতে লাল কেল্লার কাছে যে সাদা রঙের গাড়িটিতে বিস্ফোরণ হয়, সেটি চালাচ্ছিলেন ডাঃ উমর নিজেই। তদন্তে ইঙ্গিত, বিস্ফোরণে তিনি নিজেও প্রাণ হারান। ফরিদাবাদ-ভিত্তিক একটি সন্ত্রাস মডিউলের সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এই মডিউলটিকে “হোয়াইট কলার টেরর মডিউল” নামে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গেছে, ওই মডিউলের সঙ্গে জড়িত ছিল বেশ কিছু পেশাদার মানুষ, যাঁদের মধ্যে চিকিৎসকরাও আছেন। সম্প্রতি একাধিক রাজ্যে যৌথ অভিযান চালিয়ে কয়েক জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলির মধ্যে ছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল (Ammonium Nitrate Fuel Oil বা ANFO), যা শিল্প বিস্ফোরকে ব্যবহৃত হয়।
সূত্রের দাবি, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর যোগ পাওয়া গিয়েছে। লাল কেল্লার মতো পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় হামলার উদ্দেশ্য ছিল বড়সড় নাশকতা ঘটানো।
এই ঘটনার পরই জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় উমরের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, তাঁদের ধারণা ছিল উমর শুধুমাত্র পড়াশোনায় মনোযোগী একজন চিকিৎসক। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম, এখন ও কিছু করবে আমাদের জন্য। ও-ই ছিল ভরসা। বড় ডাক্তার হলে দারিদ্র কিছুটা কমত।”
বর্তমানে দিল্লি পুলিশ ও জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA যৌথভাবে বিস্ফোরণের কারণ ও নেটওয়ার্কের ব্যাপ্তি যাচাই করছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই বিস্ফোরণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় এক নতুন ধরনের টেরর মডিউলের অংশ হতে পারে।