দিল্লি বিস্ফোরণে মিলল ‘হোয়াইট কলার’ মডিউলের যোগ! তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিক পুলওয়ামার চিকিৎসক উমর মহম্মদ। ঘটনার তদন্তে নেমেছে দিল্লি পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা।

গাড়ির মালিক
শেষ আপডেট: 11 November 2025 09:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির ঐতিহাসিক রেড ফোর্টের কাছে সোমবার রাতে গাড়ি বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে আট জনের। ঘটনার পর থেকে একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। মিলেছে সিসিটিভি ফুটেজও। ওই গাড়িটি যিনি চালাচ্ছিলেন, তাকে দেখা গেছে ফুটেজের কিছু অংশে। এই ঘটনায় এবার নতুন মোড়।
মঙ্গলবার সকালে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা এক চিকিৎসক উমর মহম্মদের নামে নিবন্ধিত ছিল। ওই চিকিৎসকই ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাস মডিউলের সদস্য, যাদের সম্প্রতি জম্মু–কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশ যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিস্ফোরণকে এখন সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবেই তদন্ত করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশ UAPA-র ১৬ ও ১৮ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করেছে, পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও খুনের ধারাও যুক্ত হয়েছে।
সূত্রের দাবি, উমর মহম্মদ তাঁর দুই সহযোগী — ডা. মুজাম্মিল শাকিল ও ডা. আদিল রাঠার — গ্রেফতার হওয়ার পর ঘাবড়ে গিয়ে রেড ফোর্টের কাছে গাড়িটি উড়িয়ে দেন। ঘটনার দিন অর্থাৎ সোমবার সকালেই ফরিদাবাদে ওই মডিউলের ঘাঁটি থেকে প্রায় ২,৯০০ কেজি সন্দেহজনক বিস্ফোরক উদ্ধার হয়।
পুলিশের অনুমান, হামলায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়েছে, যা সার তৈরিতে ব্যবহৃত হলেও বোমা তৈরির কাজেও লাগে। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে জম্মু–কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ দলে ফরিদাবাদের দুটি ভাড়া বাড়ি থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও হাজার হাজার কিলো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। দুটি বাড়িই ভাড়া নিয়েছিলেন মুজাম্মিল শাকিল।
দিল্লি পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা বলেন, “একটি গাড়ি সিগন্যালে থামার পর বিস্ফোরণ ঘটে, ফলে আশপাশের কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
রেড ফোর্টের ব্যস্ত এলাকায় ঘটনাটি ঘটায় মৃতদেহ ও রক্তে ভেসে যায় রাস্তাঘাট। আগুনে অন্তত ছয়টি গাড়ি ও একাধিক অটোরিকশা পুড়ে যায়।
বর্তমানে দিল্লি পুলিশ, এনআইএ, এনএসজি, আইবি, ইউপি এটিএস, হরিয়ানা, গুজরাত ও জম্মু–কাশ্মীর পুলিশের যৌথ তদন্ত চলছে।
পুলওয়ামা থেকে তারিক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যিনি উমরকে গাড়িটি বিক্রি করেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সীমান্তপারের যোগসাজশ-সহ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, ধৃত মডিউলটি পাকিস্তান–ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ–ই–মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যারা শিক্ষিত পেশাজীবীদের ব্যবহার করে নাশকতা চালাত।