পেশায় অটোচালক অবধেশ মণ্ডল সোমবার ঘটনার সময় লালকেল্লার (Red Fort Blast) ঘটনাস্থলে ছিলেন। বিস্ফোরণের সময় ধাতব টুকরো উড়ে এসে তাঁর পেটে লাগে। গলগল করে রক্ত বেরোতে থাকে। সেই মুহূর্তে নিজেই অটো চালিয়ে চার কিলোমিটার দূরের একটি হাসপাতালে পৌঁছন।
.jpeg.webp)
দিল্লিতে বিস্ফোরণ!
শেষ আপডেট: 11 November 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে (Delhi Blast) প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন। আহত বহু। সোমবার বিকেলে লালকেল্লার মেট্রো স্টেশনের কাছে দুটি গাড়িতে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, বিস্ফোরণের (Delhi Redfort Blast) বিকট শব্দ হয়। এরপরই দেখা যায় গাড়ির দরজা আকাশে উড়তে দেখা যায়, দেহাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাস্তায়। একাধিক পথচারী গুরুতর আহত হন। তাঁদের অনেকেই নিজেরাই হাসপাতালে ছোটেন চিকিৎসার জন্য।
পেশায় অটোচালক অবধেশ মণ্ডল সোমবার ঘটনার সময় লালকেল্লার (Red Fort Blast) ঘটনাস্থলে ছিলেন। বিস্ফোরণের সময় ধাতব টুকরো উড়ে এসে তাঁর পেটে লাগে। গলগল করে রক্ত বেরোতে থাকে। সেই মুহূর্তে নিজেই অটো চালিয়ে চার কিলোমিটার দূরের একটি হাসপাতালে পৌঁছন। বিহারের বাসিন্দা অবধেশ দক্ষিণ দিল্লির নেহরু নগরে বন্ধুদের সঙ্গে থাকতেন। খবর পেয়ে তাঁর বন্ধুরা হাসপাতালে ছুটে যান।
আরও এক আহত ব্যক্তি মোহাম্মদ সফওয়ান, চেন্নাই থেকে কাজে এসেছিলেন দিল্লিতে। কাশ্মীর গেটের দিকে যাওয়ার পথে বিস্ফোরণের ধাক্কায় তিনি রিকশা থেকে পড়ে যান। পরে অন্য একজনের মোবাইল থেকে বাড়িতে খবর দেন, 'আমি আহত হয়েছি, কিন্তু বেঁচে আছি।' জানা গেছে, তাঁর পায়ে আঘাত লেগেছে, তবে এখন শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
সমীর খান, ২৩ বছরের এক অটো চালক, কাজ শেষে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের (Delhi Blast) পর তাঁর ভাই জাভেদ জানতে পারেন, সমীরকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাঁর মুখে ও শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর দগ্ধ হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে ‘জঙ্গি হামলা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি, তবে পুলিশ ইতিমধ্যেই ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট’ (UAPA)–এর আওতায় মামলা দায়ের করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছেন, 'সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।' তদন্তকারীরা জানতে চাইছে, এটি কি আত্মঘাতী হামলা (Suicide Attack) ছিল? আদিল ও মুজাম্মিলের গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার হওয়ার পর উমর আতঙ্কে পড়েছিলেন কি না, তা নিয়েও চলছে অনুসন্ধান। সন্দেহ, ভয় এবং হতাশার চাপে পড়ে তিনি হয়তো আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গাড়িটিতে ব্যবহৃত হয়েছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল (ANFO), যা শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত একধরনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক। এই রাসায়নিকের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট হয় ভয়াবহ আগুন ও ধোঁয়ার স্তম্ভ। বিস্ফোরণের সময় গাড়িটি সিগন্যালের কাছে থেমেছিল বলে দেখা গেছে সিসিটিভি ফুটেজে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ২২টি যানবাহনে।
বিস্ফোরণের সেই মুহূর্ত এখনও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে দিল্লিবাসীর মনে। শান্ত শহরের বুকে এমন ভয়াবহ ঘটনা যেন এক দুঃস্বপ্নের মতো ফিরে এসেছে।