উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর ও হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে রাদার ও শাকিলকে গ্রেফতারের পর উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২,৯০০ কিলোগ্রাম বোমা তৈরির উপকরণ, যা মূলত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, লালকেল্লার বিস্ফোরণেও এই একই রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়েছে।

শেষ আপডেট: 11 November 2025 10:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির (New Delhi) ঐতিহাসিক লালকেল্লার (Red Fort) সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Blast) মাত্র তিন সপ্তাহ আগে শ্রীনগরের (Srinagar) বিভিন্ন প্রান্তে জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammad)–এর সমর্থনে পোস্টার দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তেই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ পৌঁছে যায় উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh), হরিয়ানা (Haryana) এবং শেষ পর্যন্ত রাজধানী দিল্লি (New Delhi) পর্যন্ত। আর সেই তদন্তেই প্রকাশ পেয়েছে এক নতুন প্রবণতা - যা পুলিশ চিহ্নিত করেছে 'হোয়াইট কলার টেরর ইকোসিস্টেম' (White Collar Terror Ecosystem) নামে।
এই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার খবর মিলেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তিন কাশ্মীরি চিকিৎসক (Doctors) - আদিল আহমেদ রাদার, মুজাম্মিল শাকিল ও উমর মহম্মদের যোগ পাওয়া গেছে বিস্ফোরণের সঙ্গে। উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর ও হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে রাদার ও শাকিলকে গ্রেফতারের পর উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২,৯০০ কিলোগ্রাম বোমা তৈরির উপকরণ, যা মূলত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, লালকেল্লার বিস্ফোরণেও এই একই রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়েছে।
গাড়ির মালিকানা ঘিরে রহস্য
বিস্ফোরণের পর পুলিশ যে গাড়িটি (Car) উদ্ধার করে, তার নম্বরের নথি অনুযায়ী, গাড়িটি প্রথমে ছিল সালমানের নামে। পরে তা বিক্রি হয় দেবেন্দরের কাছে। দেবেন্দর বিক্রি করেন আমিরকে, আমির দেন তারিককে, আর তারিকের হাত ঘুরে গাড়িটি পৌঁছায় ড. উমর মহম্মদের কাছে। উমর, যিনি আদিলের ঘনিষ্ঠ বলে পুলিশ জানিয়েছে, শ্রীনগরের ‘জইশ পোস্টার’ (Jaish Poster) মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হন। এখন মনে করা হচ্ছে, বিস্ফোরণের সময় গাড়িটির চালক ছিলেন তিনিই। বিস্ফোরণের আগমুহূর্তে তোলা সিসিটিভি ফুটেজে (CCTV Footage) দেখা গেছে তাঁর মুখের একাংশ। পুলিশের পরিকল্পনা, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে চালকের পরিচয় নিশ্চিত করা।
আত্মঘাতী হামলার আশঙ্কা
এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি, তবে পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট’ (UAPA)–এর আওতায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছেন, “সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এটি কি আত্মঘাতী হামলা (Suicide Attack) ছিল? আদিল ও মুজাম্মিলের গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার হওয়ার পর উমর আতঙ্কে পড়েছিলেন কি না, তা নিয়েও চলছে অনুসন্ধান। সন্দেহ, ভয় এবং হতাশার চাপে পড়ে তিনি হয়তো আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান।