সূত্রের খবর, রবিবার তাঁর সহযোগী দুই চিকিৎসক - মুজাম্মিল শাকিল ও আদিল আহমেদ রাঠারকে গ্রেফতারের খবর জানার পরই ভয় পেয়ে উমর বিস্ফোরণ ঘটায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 November 2025 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার (New Delhi Red Fort) সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের তদন্তে উঠে এল পাকিস্তান (Pakistan) মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর নাম। ৯ জনের মৃত্যু ও অন্তত ২০ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে কাশ্মীরের চিকিৎসক (Doctor) উমর উন নবি, যিনি জইশ-সংঘের হরিয়ানার (Haryana) ফরিদাবাদ মডিউলের (Faridabad Module) সদস্য বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
সূত্রের খবর, রবিবার তাঁর সহযোগী দুই চিকিৎসক - মুজাম্মিল শাকিল ও আদিল আহমেদ রাঠারকে গ্রেফতারের খবর জানার পরই ভয় পেয়ে উমর বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের (Blast) আগে ওই মডিউলের আস্তানায় প্রায় ২ হাজার ৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে এনআইএ (NIA) ও রাজ্য পুলিশ (State Govt)। সোমবার সন্ধেয় লালকেল্লার পাশে নেটাজি সুভাষ মার্গে বিস্ফোরিত হয় একটি সাদা গাড়ি, তাতে উমরই ছিলেন চালকের আসনে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গাড়িটিতে ব্যবহৃত হয়েছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল (ANFO), যা শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত একধরনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক। এই রাসায়নিকের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট হয় ভয়াবহ আগুন ও ধোঁয়ার স্তম্ভ। বিস্ফোরণের সময় গাড়িটি সিগন্যালের কাছে থেমেছিল বলে দেখা গেছে সিসিটিভি ফুটেজে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ২২টি যানবাহনে।
দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল (Delhi Police Special Cell) সূত্রে জানা গেছে, গাড়িটি প্রথমে সালমান নামে এক ব্যক্তির নামে নথিভুক্ত ছিল, পরে একাধিক হাত বদলের পর তা উমরের কাছে পৌঁছায়। উমরই ছিলেন গাড়ির শেষ ব্যবহারকারী ও চালক। বিস্ফোরণের পর তাঁর দেহাংশ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।
কে এই উমর? ১৯৮৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জন্ম উমরের। আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 'হোয়াইট কলার' সন্ত্রাস মডিউলের অন্যতম সদস্য তিনি।
এই ঘটনায় UAPA আইন, ভারতীয় দণ্ডবিধির খুন ও হত্যাচেষ্টার ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে যুক্ত রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে এনআইএ ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।
পুলিশ জানায়, অক্টোবরে শ্রীনগরে জইশ ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের হুমকি-পোস্টার উদ্ধার থেকেই শুরু হয় গোটা তদন্ত। সেই সূত্র ধরেই ফরিদাবাদের জঙ্গি ঘাঁটি উন্মোচিত হয়। মোট আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে এক জন ধর্মগুরুও রয়েছেন।
লালকেল্লার বিস্ফোরণ শুধু দিল্লি নয়, দেশের গোটা নিরাপত্তা কাঠামোকেই নাড়া দিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খুঁজছেন, এটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ছিল, নাকি সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলা।