দাম না বাড়লেও বাংলাদেশের আসল সমস্যা ভিন্ন। সে দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র টানাটানি চলছে বিগত দিন পনেরো যাবৎ। সরকার জোগান স্বাভাবিক বলে দাবি করলেও এক-দু লিটার পেট্রল পেতে পাম্পে পাঁচ ছ ঘন্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2026 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব জুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হলেও বাংলাদেশে (Bangladesh) জ্বালানির খুচরো মূল্য বাড়ছে না। এপ্রিল মাসেও সে দেশে পেট্রল (Petrol), ডিজেল (Diesel), অকটেন এবং কেরোসিন ফেব্রুয়ারি, মার্চ মাসের দামেই পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ সরকারের (Bangladesh Govt) পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক মঙ্গলবার বেশি রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে খুচরো দাম অপরিবর্তিত রাখার কথা জানিয়েছে।
সে দেশে এখন বাংলাদেশি মুদ্রায় ডিজেল ১০০ টাকা লিটার। ১২০ টাকা লিটার অকটেন। পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা লিটার। ১১২ টাকা লিটার হল কেরোসিন।
অকটেন হল একটি বর্ণহীন তরল যা ইঞ্জিনে জ্বালানি বিস্ফোরণের ক্ষমতা নির্দেশ করে। উচ্চ অকটেনের ইন্ধন ইঞ্জিনকে আরও মসৃণ ও শক্তিশালীভাবে চলতে সাহায্য করে, আর নিম্ন অকটেনের ক্ষেত্রে নকিং বা অনিয়মিত বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এটি গাড়ির দক্ষতা এবং নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অবশ্য দাম না বাড়লেও বাংলাদেশের আসল সমস্যা ভিন্ন। সে দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র টানাটানি চলছে বিগত দিন পনেরো যাবৎ। সরকার জোগান স্বাভাবিক বলে দাবি করলেও এক-দু লিটার পেট্রল পেতে পাম্পে পাঁচ ছ ঘন্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। শত শত পাম্প তেল শূন্য। ডিজেলের অভাবে ছেঁচের পাম্প চালাতে না পেরে মাথায় হাত কৃষকদের। একই কারণে নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছে না ট্রলার। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার জেলে।
ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার একমাস আগে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার জ্বালানির দাম লিটারে ২ টাকা কমিয়ে ছিল। ফলে এক লপ্তে টানা চার মাস সে দেশে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত থাকছে।
ঢাকার (Dhaka) সরকারি সূত্রের খবর, মে এবং জুন মাসেও জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা হচ্ছে। সংকট সত্ত্বেও দাম বাড়ানো হচ্ছে না বিদ্যুতের। এজন্য বিদ্যুৎ মন্ত্রক অর্থ মন্ত্রকের কাছে ২২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারেক রহমানের সরকার বিদেশি ঋণ পেতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বা আইএমএফ এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে।