Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধান

গোপালগঞ্জে গুলি, ১৪৪ ধারা, ছাত্র লিগের ভয়ে নাহিদরা সার্কিট হাউসে, ‘হাসিনা সেনা’র দাপট

অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ। কালীপুজোর রাতে বাজি ফাটার মতো ঘন ঘন ককটেল বিস্ফোরণ হচ্ছে শহর জুড়ে। চলছে গোলাগুলি। 

গোপালগঞ্জে গুলি, ১৪৪ ধারা, ছাত্র লিগের ভয়ে নাহিদরা সার্কিট হাউসে, ‘হাসিনা সেনা’র দাপট

শেষ আপডেট: 16 July 2025 16:52

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ। কালীপুজোর রাতে বাজি ফাটার মতো ঘন ঘন ককটেল বিস্ফোরণ হচ্ছে শহর জুড়ে। চলছে গোলাগুলি। দেদার ফাটানো হচ্ছে কাঁদানে গ্যাসের সেল। পুলিশ, সেনা, বিজিবি দফায় দফায় গুলি, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করছে। শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থানে পরিস্থিতি অনেকটাই গত বছর ৫ অগস্টের আগের মতো। শুধু প্রতিপক্ষ বদলে গিয়েছে। তখন পুলিশ ও সেনার নিশানায় ছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতৃত্ব। বুধবার পুলিশ তাদের রক্ষা করছে। নিশানা করছে আওয়ামী লিগের ছাত্র নেতৃত্ব ছাত্র লিগের উপর। শহরের একাধিক জায়গায় আগুন জ্বলছে। হাঁট-বাজার, অফিস, স্কুল-কলেজ বন্ধ। সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেই। তবে কয়েক হাজার ছাত্র লিগ নেতা-কর্মী রাস্তা দখল করে রেখেছে। জেলা কারাগারে হামলা চালিয়ে তারা আটক আওয়ামী লিগ নেতাদের ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। একটু আগে সেনা-পুলিশ কারাগারের দখল নিয়েছে। তার আগে কারাগারের দরজা-জানালা ভেঙে ফেলে তারা। গেট ভাঙতে না পারায় কোনও বন্দিকে এখনও মুক্ত করতে পারেনি তারা।

সকাল থেকে দফায় দফায় চেষ্টা করেও ছাত্র লিগ সমর্থকদের রাস্তা থেকে সরাতে পারেনি সেনা-পুলিশ। ঢাকা এবং আশপাশের এলাকা থেকে দফায় দফায় পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। কিন্তু ছাত্র লিগ সমর্থকেরা মরিয়া। লিগ নেতৃত্বের দাবি, বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ। যৌথবাহিনীর অভিযানের প্রস্তুতি চলছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একটু আগে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। একজন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে। তাঁর বাবা দাবি করেন, সেনার গুলিতে মারা গিয়েছে তাঁর ছেলে। যদিও পুলিশ ও সেনা এখনও মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি।

একটু আগে ছাত্র লিগের প্রবল বাধার মুখে সেনা ও পুলিশের ঘেরাটোপে কোনও ক্রমে সভা করে গোপালগঞ্জ ছাড়ার মুখে জনতার প্রতিরোধের মুখে আটকে পড়েন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা। ঢাকা ফেরার পথে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহরা ঢাক ফেরার পথে তাদের গাড়ির কনভয় আওয়ামী লিগ সমর্থকদের বাধার মুখে পড়ে। এনসিপি নেতারা ভয়ে গাড়ি থেকে নামেননি। সেনা ও পুলিশ আওয়ামী লিগ সমর্থকদের বাধার মুখে গাড়ি ঘুরিয়ে এনসিপি নেতাদের গোপালগঞ্জ শহরের সার্কিট হাউসে নিয়ে গিয়ে তুলেছে।

সেখান থেকে ঢাকায় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলছেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলমরা। তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা পৌঁছে দেওয়াই এখন সেনা ও পুলিশের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এনসিপি-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক গোটা দেশের মানুষকে গোপালগঞ্জে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি থমথমে। ঢাকায় বিএনপির  মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির এনসিপি নেতাদের উপর তীব্র নিন্দা করেছেন।

এর আগে গোপালগঞ্জ শহরে সংক্ষিপ্ত সভা করেন এনসিপি নেতারা। সেখানে শ্রোতার তুলনায় পুলিশ-সেনা ছিল সংখ্যায় অনেক বেশি। এর আগে এনসিপি-র সভা মঞ্চে হামলা হয়। অভিযোগ, ছাত্র লিগ ও যুব লিগ এই হামলা চালায়।

সমগ্র গোপালগঞ্জের পথঘাট সকাল থেকে ছাত্র লিগের দখলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাল্টা নেমেছে সেনা ও পুলিশ। সেনার গুলিতে এক তরুণ আহত হয়েছে বলে আওয়ামী লিগের দাবি। গুলিবিদ্ধ যুবককে সেনা বুট দিয়ে লাথি মারে বলেও অভিযোগ ওই দলের।

এদিকে, রাস্তা জুড়ে ভিড়ের মধ্যেই দেদার ককটেল বিস্ফোরণ হচ্ছে। সকালে পুলিশের সঙ্গে যুব লিগের কর্মীদের সংঘর্ষে তিন পুলিশ কর্মী আহত হন। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করার পর তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় ছাত্রলিগ সমর্থকেরা। তাৎপর্যপূর্ণ হল বঙ্গবন্ধুর মাজার রক্ষা করতে নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী-সহ সব বয়সের মানুষ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ঘিরে রাখে সকাল থেকে। সেখানেই রয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি। তাঁর জন্মস্থানও সেখানে। সেখানেই পৈত্রিক বাড়িতে জন্ম হয় শেখ হাসিনার। সেই বাড়িও অক্ষত আছে। আওয়ামী লিগ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে খবর ছিল এনসিপি গোপালগঞ্জে এসে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে হামলা করবে। সেটির দশাও ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটির মতো ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।

তবে সেখানে কেউ হামলা চালাতে পারেনি। সেনা ও পুলিশ ছাড়াও আওয়ামী লিগের কর্মী-সমর্থকেরাও সেখানে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে গোপালগঞ্জে দাঁত ফোটাতে পারল না এনসিপি-জামাত-বিএনপি। গোপালগঞ্জ এখনও আওয়ামী লিগের মুক্তাঞ্চল।


```