আওয়ামী লিগ নেতৃত্বের অভিযোগ, দেশে থাকা দলের নেতা কর্মীদের উপর জুলুম, সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। কুরবানির পশু কিনতে তাদের থেকে জোর করে টাকা পয়সা আদায় করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা।
শেষ আপডেট: 6 June 2025 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউ-উল-আজহা, (Eid Ul Azha) উপলক্ষে দেশ ও বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামী লিগের সভানেত্রী তথা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ex PM of Bangladesh Sheikh Hasina l)
ইদ-উল-আজহা মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। কিন্তু বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার (political turmoil) কারণে বহু পরিবার কুরবানির ইদ পালন করতে পারছে না। বিশেষ করে আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা অনেকেই এলাকা ছাড়া। রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বলি হয়েছেন বহু মানুষ। সেই পরিবারগুলিতেও ইদের আনন্দ নেই। হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তায় সেই অস্থির পরিস্থিতি উঠে এসেছে।
আওয়ামী লিগ নেতৃত্বের অভিযোগ, দেশে থাকা দলের নেতা কর্মীদের উপর জুলুম, সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। কুরবানির পশু কিনতে তাদের থেকে জোর করে টাকা পয়সা আদায় করা হচ্ছে। তাদের কুরবানির পশু কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। কুরবানি দিতে দেওয়া হবে না বলে বহু জায়গায় ফতোয়া জারি করেছে বিএনপি-জামাত-এনসিপি।
হাসিনা শুভেচ্ছা বার্তায় বলেছেন, যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হবে এবং এর ত্যাগের মহিমা আমাদেরকে আরও উদার ও মানবিক হতে শিক্ষা দিবে। ঈদ-উল-আজহার ত্যাগ ও উৎসর্গের মধ্য দিয়ে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করব এবং পরস্পরের নিকটে আসব বলে প্রত্যাশা করি।
হাসিনা শুভেচ্ছা বার্তায় লিখেছেন, প্রিয় দেশবাসী, ইদের দিন আমাদের অত্যন্ত আনন্দের দিন। কিন্তু এ বছর সেই আনন্দ প্রাণ থেকে উদযাপন করতে পারছে না দেশ ও দেশের শান্তিকামী জনতা। কারণ দেশের কোথাও জানমালের নিরাপত্তা নেই, চতুর্দিক দিক থেকে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। মবের পাশবিক উল্লাসে বিনষ্ট হচ্ছে মানুষের আত্মিক প্রশান্তি, জাগতিক সুখ ও সমৃদ্ধি।
তিনি আরও লিখেছেন, প্রিয় শান্তিকামী জনতা, এই পরম আনন্দের দিনও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে আপনাদের। অনির্ণেয় আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা আজ চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত। লাঞ্ছিত আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিলামে তুলে নিজেদের আখের গোছাতে মরিয়া লুটেরার দল।
প্রিয় মুক্তিকামী জনতা, এই পবিত্র দিনে তাই আমাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা ও জুলুমের হাত থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করা প্রত্যেক মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব। দেশের ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আজ যারা বাংলাদেশকে চিরকালের মতো ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে তাদের প্রতিহত করতে হবে। দেশমাতৃকার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের।
আমার প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ, আসুন, আমরা পবিত্র ঈদ-উল-আজহার মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে নিজেদের মনের পাপ ও ভেদাভেদকে কুরবানি দিয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মঙ্গলের জন্য একতাবদ্ধ হই। ঈদের আনন্দে যাতে আলোকিত হয় প্রতিটা ঘর, অন্যায় ও জুলুমের হাত থেকে মুক্তি পায় দেশ ও দেশের মানুষ—আমরা সেই প্রার্থনা করি।
আওয়ামী লিগ নেত্রী দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য ফেরানোর যে ব্রত নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমৃত্যু কাজ করে গেছেন, সেই ব্রত নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ এখন এবং আগামীতেও কাজ করে যাবে। আমাদের ইতিহাস ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস। আমাদের ইতিহাস অর্জনের ইতিহাস। আপনারা বিশ্বাস হারাবেন না। মনোবল ধরে রেখে আমাদের জন্য প্রার্থনা করবেন। আল্লাহ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আত্মোৎসর্গকারীদের সঙ্গে সব সময় আছেন। পবিত্র ঈদ-উল-আজহা আমাদের সেই শিক্ষা দেয়।