ভারতের তীব্র আপত্তির পর ইসলামিক বক্তা জাকির নায়েকের অনুমতি বাতিল করল বাংলাদেশ। নায়েককে গ্রেফতার করে নয়াদিল্লির হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভারত।

শেষ আপডেট: 5 November 2025 11:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্কিত ইসলামী বক্তা জাকির নায়েকের ঢাকা সফরের অনুমতি বাতিল করল বাংলাদেশ সরকার। সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, জাকির নায়েক এলে তাঁর সভায় বিপুল জনসমাগম হতে পারে। দেশে এখন নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যস্ততা তুঙ্গে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নায়েকের সভার ভিড় সামাল দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নিরাপত্তা বাহিনীগুলির নেই।
যদিও এই সরকারি বয়ানকে অনেকেই বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। বরং নয়া দিল্লির চাপের মুখে বাংলাদেশ সরকার এই সিদ্ধান্ত নিল বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীরচ জয়সওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে বলেছিলেন জাকির নায়েক ঢাকায় গেলে বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে তাঁকে গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া।
বাংলাদেশের একটি অসরকারি প্রতিষ্ঠান জাকির নায়েককে চলতি মাসের ২৮ ও ২৯ নভেম্বর ঢাকায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। দু'দিনই দুটি বড় স্টেডিয়ামে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা। এই খবর জানাজানি হতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়ে ছিল, ঢাকার উচিত হবে জাকির নায়েককে গ্রেফতার করে দিল্লির হাতে তুলে দেওয়া।
প্রসঙ্গত ইসলামি প্রবক্তা জাকির নায়েক দীর্ঘদিন যাবত মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। ২০১৬ সালে ঢাকায় হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর ভারত সরকার জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ আনে। সেই সময় দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল জাকিরের মন্তব্যকে ঘিরে। তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছিল। ভারতে একাধিক আদালতে এই ইসলামিক স্কলার ও সুবক্তার বিরুদ্ধে মামলা চালু আছে।
২০১৬ সালে বিতর্কিত মন্তব্যের সময়ই পূর্বনির্ধারিত সফরে মালয়েশিয়া যান জাকির। সেখান থেকে আর দেশে ফেরেননি। ভারত সরকার মালয়েশিয়ার সঙ্গে তাঁকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল জাকিরকে নিয়ে ভারতের চাপের মুখে বাংলাদেশ করা প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র শুধু বলেন ভারতের প্রতিক্রিয়ার দিকে তাদের নজর আছে। দেখা গেল ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কঠোর মনোভাবের পর বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ পদাধিকারীরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত করলেন জাকিরকে ঢাকায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। যে প্রাথমিক অনুমতি উদ্যোক্তাদের দেওয়া হয়েছিল তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম। যা থেকে ওয়াকিবহালমহল মনে করছে ভারতের আপত্তিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। জাকির কে গ্রেফতার করে নয়া দিল্লির হাতে তুলে দেওয়ার মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতেই ওই বিতর্কিত ইসলামি বক্তাকে ঢাকা শহরের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।