কমিশনারকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার বিষয়ে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর প্রচারিত ভ্রান্ত বর্ণনা ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
শেষ আপডেট: 17 December 2025 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়ে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ ভারত। বুধবার সকালে নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার (Bangladesh High Commissioner) রিয়াজ হামিদুল্লাহকে (M. Riaz Hamidullah) বিদেশ মন্ত্রকে তলব করে নয়া দিল্লির তরফে উদ্বেগ, খুব প্রকাশের পাশাপাশি ওই দেশকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে বুধবার সকালে ঢাকায় বাংলাদেশ ভিসা (Bangladesh Visa) অফিস বেলা দুটোর মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সেখানকার হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয় শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁকে বলা হয়, বাংলাদেশে ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে, কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর কার্যকলাপের প্রতি তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, যাঁরা ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় মিশনের আশপাশে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাতে নিরাপত্তা সংকট দেখা দিতে পারে।
কমিশনারকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার বিষয়ে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর প্রচারিত ভ্রান্ত বর্ণনা ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। দুঃখজনক যে অন্তর্বর্তী সরকার এসব ঘটনার বিষয়ে না কোনও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করেছে, না ভারতের সঙ্গে কোনও অর্থবহ প্রমাণ শেয়ার করেছে।
প্রসঙ্গত সম্প্রতি থাকায় জুলাই আন্দোলনের প্রথম সারির এক নেতা গুলিবিদ্ধ হন গুরুতর আহত অবস্থায় এখন সিঙ্গাপুরে তার চিকিৎসা চলছে। তার শারীরিক পরিস্থিতি ভালো নয়। বাংলাদেশের কিছু গোষ্ঠী প্রচার করছে ওই ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা করি ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। শুধুমাত্র এই জাতীয় কিছু সংগঠনের অভিযোগ তথা দাবির মুখে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক গত রবিবার ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার কে ডেকে সতর্ক করে। ঢাকার এই সিদ্ধান্তে নয়া দিল্লি যারপরনাই ক্ষুব্ধ।
মঙ্গলবারই দুই দেশ বিজয় দিবস পালন করেছে। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থাকার রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তান বাহিনী। ওইদিন পাকিস্তানের কবল মুক্ত হয় বাংলাদেশ। একই দিনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় হাসিল করে ভারত।
বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে বুধবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকে ডেকে বলা হয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সুদৃঢ় হওয়া বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে আহ্বান জানিয়ে আসছি। এরপর তাঁকে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক দায়বদ্ধতার আলোকে বাংলাদেশে অবস্থিত মিশন ও পোস্টগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে—এমন প্রত্যাশা আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে রাখি।