আদালত মা এবং শিশু কাউকেই জামিন দেয়নি। মাকে জেলখানায় এবং সাত বছর বয়সি শিশুটিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠিয়েছে।

শেষ আপডেট: 7 December 2025 21:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চট্টগ্রামে (Chattagram) সাত বছর বয়সি একটি শিশুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (Bangladesh Police)। শিশুটির বিরুদ্ধে অভিযোগ সে তার মায়ের সঙ্গে চার বছর বয়সি একটি বাচ্চাকে অপহরণের (7 year old kidnapping case) যুক্ত ছিল। আদালত মা এবং শিশু কাউকেই জামিন দেয়নি। মাকে জেলখানায় এবং সাত বছর বয়সি শিশুটিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠিয়েছে।
তিন দিন আগের এই গ্রেফতারি এবং আইন আদালত করা নিয়ে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার মহলে তুমুল আলোচনা হচ্ছে। সমাজ মাধ্যমেও চলছে তর্কবিতর্ক। বাংলাদেশের আইনে নয় বছরের কম বয়সি কোনও শিশুকে হেফাজতে নেওয়ার বিধান নেই। তাহলে কী করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অধীনস্থ পাঁচলাইশ থানা সাত বছর বয়সি শিশুকে গ্রেফতার করল এবং আদালতই বা কোন যুক্তিতে তাকে আটকে রাখতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠালো তা নিয়ে বহু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন।
বাংলাদেশের আইনজীবীদের একাংশ সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার এবং চট্টগ্রামের নিম্ন আদালতের বিচারকের শাস্তি দাবি করেছেন।
পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম। তাঁর অভিযোগ বছরখানেক আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে তাঁর চার বছর বয়সি সন্তানকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁর সন্তান হারিয়ে যায়। স্থানীয় থানায় তিনি মিসিং ডায়েরি করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর চার বছর বয়সি সন্তান মহম্মদ রামিমকে খুঁজে পাননি।
তাঁর বক্তব্য সম্প্রতি তিনি একটি সূত্র থেকে খবর পান তাঁর সন্তানকে বছর তিরিশের এক মহিলা ও তাঁর সাত বছর বয়সি ছেলে হাসপাতাল থেকে অপহরণ করেছে। তিনি পাঁচলাইশ থানায় ওই মহিলা ও তাঁর সন্তানের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করেন।
তদন্তকারী অফিসার অমিতাভ দত্ত অভিযোগ দায়েরের দিনই অভিযুক্ত মহিলা ও তাঁর সাত বছর বয়সি পুত্রকে গ্রেফতার এবং আদালতে পেশ করে। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিতর্কে জড়িয়েছেন বিচারকও। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ রবিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, বিতর্কের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। মামলাটি এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে