খোকন দাসের (Khokan Das Bangladesh) বাড়ি রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের এক গ্রামে। সেখানেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি ওষুধের ব্যবসা চালাতেন।

নিহত খোকন দাস
শেষ আপডেট: 3 January 2026 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষবরণের রাতে বাংলাদেশে হিন্দু প্রৌঢ় খোকন দাসকে (Hindu Man Khokan Das Death) অকথ্য নির্যাতন, ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত, পুড়িয়ে খুনের চেষ্টা করে দুষ্কৃতীদের একটি দল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনদিনের মাথায় তাঁর মৃত্যু হল (Khokan Das Death in Bangladesh)। এরফলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর সহিংসতার ঘটনার তালিকায় ফের যুক্ত হলো নতুন একটি নাম- খোকন চন্দ্র দাস।
খোকন দাসের (Khokan Das Bangladesh) বাড়ি রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের এক গ্রামে। সেখানেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি ওষুধের ব্যবসা চালাতেন। গত বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎই কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং শেষে গায়ে আগুন লাগিয়ে খুনের চেষ্টা করে। আগুনে তাঁর মাথা ও মুখের বেশ কিছুটা অংশ পুড়ে গিয়েছিল।
বাঁচার তাগিদে খোকন দাস পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পুকুরের জলে আগুন নিভলেও ততক্ষণে গুরুতর দগ্ধ হন তিনি। হামলাকারীরা সেখানে থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাঁকে ঢাকায় বড় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয় (Khokan Das Death in Bangladesh)।
খোকন দাসের স্ত্রী সীমা দাস সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তাঁদের কারও সঙ্গে কোনও বিরোধ ছিল না। তাই কেন এভাবে এমন নৃশংস হামলা করা হয়েছে, তাও বুঝে উঠতে পারছেন না। তিনি আরও দাবি করেন, "হামলাকারীরা মুসলিম এবং তাঁর স্বামী তাদের মধ্যে দু’জনকে চিনে ফেলেছিলেন বলেই হয়তো আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।"
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা, অত্যাচার ও হত্যার ঘটনা বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও অভিযোগ তুলছে যে, মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তারা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
খোকন দাসের ওপর হামলা- ডিসেম্বরে এনিয়ে এটি চতুর্থ ঘটনা। গত মাসে ভারত বিরোধী ছাত্র নেতা ওসমান হাদির (Osman Hadi) খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। দিকে দিকে বিক্ষোভ শুরু হয়, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বাড়ে। প্রথম, ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু দাসের (Deepu Das Death) হত্যা। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই উত্তেজনার ভিড় তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে। তাঁর দেহ একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর অমৃত মণ্ডল এবং বজেন্দ্র দাস- দুই হিন্দু যুবককে খুনের অভিযোগ ঘটেছে।
ভারত বারবার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর 'নির্যাতন' নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে (India on Bangladesh Situation) এবং পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক নজর রাখার কথা বলেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও জানিয়েছে, তারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।