ময়মনসিংহে ফের হিংসার ছায়া। জামা কাপড়ের কারখানায় সহকর্মীর গুলিতে প্রাণ গেল হিন্দু আনসার সদস্য বজেন্দ্র বিশ্বাসের।

বজেন্দ্র বিশ্বাস
শেষ আপডেট: 30 December 2025 18:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীপু দাসের পর বজেন্দ্র বিশ্বাস। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে গুলি করে খুন করা হল হিন্দু ব্যক্তিকে। সহকর্মীর হাতে থাকা শটগান থেকে ছোড়া গুলিতেই তাঁর প্রাণ যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
ময়মনসিংহের ভালুকা অঞ্চলের একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন আনসার সদস্য হিসেবে বজেন্দ্র বিশ্বাস। ওই কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। সিলেট সদর এলাকার কাদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পবিত্র বিশ্বাসের ছেলে। সোমবার কর্তব্যরত অবস্থায় ছিলেন, তখনই গুলি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় কারখানায় প্রায় ২০ জন আনসার সদস্য ডিউটিতে ছিলেন। সেই সময় বজেন্দ্র বিশ্বাস ও তাঁর সহকর্মী নোমান মিঞা একসঙ্গে কারখানার ভেতরে বসেছিলেন। নোমানের হাতে থাকা শটগান থেকে গুলি গিয়ে লাগে বজেন্দ্রর বাঁ দিকের উরুতে। প্রবল রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
সহকর্মীরা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর আগেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ডিউটির মধ্যে এমন মৃত্যুর ঘটনায় সহকর্মী আনসার সদস্যদের মধ্যেও শোক ও আতঙ্ক ছড়ায়।
এই ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ। ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত নোমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বয়স ২২, লুৎফুর রহমানের ছেলে এবং সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর এলাকার বালুতুরি বাজারের বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, বজেন্দ্রর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন তাঁরা। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। এটি নিছক দুর্ঘটনা ছিল, না কি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের বক্তব্য, আনসার সদস্যরা সাধারণত কারখানা, ব্যাঙ্ক, নির্বাচন ও সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকেন এবং সংবেদনশীল এলাকায় তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল কি না, তা সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।