সখিনা বেগম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজনীতির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না তাঁর।

শেষ আপডেট: 17 June 2025 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাম সখিনা বেগম৷ (Sakhina Begam)। বয়স ৯২। বাড়ি বাংলাদেশের (Bangladesh) কিশোরগঞ্জের (Kishorganj) বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়ার বড়মাইপাড়ায়। মঙ্গলবার ভোরে তিনি নিজের বাড়িতে প্রয়াত হয়েছেন।
তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজনীতির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না তাঁর। জীবনযাপনও ছিল অতিসাধারণ। বার্ধক্য ও বয়সের কারণে চলাফেরা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। একপ্রকার লোকচক্ষুর আড়ালে থেকেই মঙ্গলবার সকালে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন।
তবে এই সাধারণ বৃদ্ধার মৃত্যু সংবাদ নাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে। শ্রদ্ধায় মানুষ স্মরণ করছেন মুক্তিযুদ্ধে বৃদ্ধার অনন্য সাহসী অবদান। সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমেও তাঁকে স্মরণ করছেন বাংলাদেশের মানুষ। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সখিনা বেগমের শেষকৃত্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মাঝবয়সি গৃহবধূ সখিনা বেগম বসু বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরে রাঁধুনির কাজ করতেন। পাশাপাশি পাকিস্তান বাহিনী ও তাঁদের দোসর রাজাকার, আল-বদরেরের মতো পাকিস্তানের মিত্র সংগঠনগুলির গোপন খবরাখবর সংগ্রহ করতেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বসু বাহিনী' নামে বলতে ক্ষিতিশচন্দ্র বসুর তৈরি বাহিনীকে বোঝাত। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর অনুগামী ক্ষিতিশচন্দ্র আজাদ হিন্দ বাহিনীর আদলে সামরিক বাহিনী গঠন করেন। ক্যাম্পে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। ক্যাম্পে রান্নার পাশাপাশি অস্ত্র প্রশিক্ষণও নেন।
বসু বাহিনীর সদস্য মতিউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে নিহত হন। বসু বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায় পাকসেনা। তারা সখিনা বেগমকে অপহরণ করে।
মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস থেকে জানা যায়, কিছুদিন পর পাক বাহিনীর ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসেন সখিনা বেগম। সঙ্গে নিয়ে আসেন একটি সোর্ড। পরে সেই সোর্ড দিয়েই তিনি স্থানীয় পাঁচ রাজাকারকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলাম পাক বাহিনীর হয়ে কাজ করত। তারা রাজাকার, আল-বদর, আল শামস বাহিনী গঠন করে। পাকিস্তানি সেনা তাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়। ওই তিন বাহিনী পাকিস্তানি সেনাকে সাহায্য করার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দেওয়া, হত্যা ইত্যাদি করত। সেই বাহিনীর পাঁচজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা কিশোরগঞ্জে রাজাকার বাহিনীর মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। বীরাঙ্গনা সখিনার আড়ালে থাকা বীরত্বের কথা শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন বাংলাদেশের মানুষ।