গতবছর হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেই তাঁর এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এই তালিকায় শেখ হাসিনার (Seikh Hasina) বোন শেখ রেহানা এবং তাঁর ছেলেমেয়েদের নামও রয়েছে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 November 2025 08:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Bangladesh Ex PM Seikha Hasina) দুটি ব্যাংক লকার থেকে ৮৩২ ভরি সোনা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেছে সে দেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হাসিনার (Seikh Hasina) ওই লকার দুটি ছিল অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকার একটি শাখায়।
আওয়ামী লিগ নেত্রী তথা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে দুদক। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর পৃথক মামলায় হাসিনার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। সেই মামলাতেই ব্যাংক লকার থেকে সোনা উদ্ধার করে রাজস্ব বোর্ড এবং দুদকের কর্তারা।
গত ১৭ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তার যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার রায় দিয়েছে। সেই রায় কার্যকর করতেও এই জাতীয় অভিযান আপাতত চলবে বলে অন্তর্ভুক্তি সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে।
গতবছর হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেই তাঁর এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এই তালিকায় শেখ হাসিনার (Seikh Hasina) বোন শেখ রেহানা এবং তাঁর ছেলেমেয়েদের নামও রয়েছে। হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কন্যা সায়েমা ওয়াজেদ পুতুলের একাধিক ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে বলে তদন্তকারীরা দাবি করে আসছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ঢাকায় আইন বহির্ভূতভাবে সরকারি প্লট নেওয়ার পৃথক অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে। এর আগে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও জব্দ করা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান শেখ মুজিবুর রহমানের (Sheikh Mujibur Rahman) ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িটি মিউজিয়াম হিসেবে গড়ে তুলে দেখভাল করছিল। সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান দুই ট্রাস্টি হাসিনা ও রেহানা।
গতবছর আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর থেকে ওই দলের নেতাদের পাশাপাশি শেখ পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ইউনুস প্রশাসন। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লিগ ইতিপূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন এবং বানানো বলে দাবি করেছে। অগ্রণী ব্যাংকের লকার থেকে সোনা উদ্ধারের বিষয়ে এখনও দল এবং শেখ হাসিনা কোন মন্তব্য করেননি। দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্তারা জানিয়েছেন সাম্প্রতিক অতীতে এত বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের নজির নেই। এমনকী বিভিন্ন বন্দর দিয়ে সোনা পাচার বন্ধের অভিযানেও এত সোনা মেলেনি।
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লিগের (Awami League) একজন নেতার বক্তব্য, নেত্রী এবং দল এই ব্যাপারে উপযুক্ত সময়ে প্রতিক্রিয়া দেবে। তবে অ্যাকাউন্টগুলি সিল করার পর লকারও চলে গিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের হাতে। তারা যা ইচ্ছে দাবি করতে পারে। এরপর হিরা, মুক্তা উদ্ধারের দাবি করলেও অবাক হব না।
অন্যদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তথা এনবিআর এবং দুর্নীতি দমন কমিশন দাবি করেছে তারা আদালতের অনুমতি নিয়ে লকার ভেঙেছে। ভাঙার সময় ব্যাংকের আধিকারিকেরা ছাড়াও একজন ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। গোটা উদ্ধার পর্ব ভিডিও করা হয়েছে। আদালতে তা পেশ করা হবে।