স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে চলমান বিতর্কে নয়া মাত্রা যোগ করেছেন বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুস (Muhammad Yunus)। সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন (BNP) খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে বলেছেন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এরপরই বাংলাদেশ জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন বিএনপিকে খুশি করতে প্রধান উপদেষ্টা জিয়াকে মহিমান্বিত করেছেন স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বর্ণনা করে।

শেষ আপডেট: 25 November 2025 20:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের (Bangladesh News) স্বাধীনতার ঘোষক কে তা নিয়ে বিতর্ক আজও চলমান। আওয়ামী লিগের (Awami Leauge) দাবি ১৯৭১ এর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (Sheikh Mujibur Rahman)। অন্যদিকে বিএনপি'র বক্তব্য, স্বাধীনতার ঘোষক দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চট্টগ্রামে মেজর পদে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনি।
স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে চলমান বিতর্কে নয়া মাত্রা যোগ করেছেন বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুস (Muhammad Yunus)। সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন (BNP) খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে বলেছেন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এরপরই বাংলাদেশ জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন বিএনপিকে খুশি করতে প্রধান উপদেষ্টা জিয়াকে মহিমান্বিত করেছেন স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বর্ণনা করে। অর্থাৎ একাংশের মত হল ইউনুস তাঁর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখে ওই কথা বলেছেন।
এই প্রচারকে নস্যাৎ করে দিচ্ছেন কলকাতায় বাংলাদেশের উপ দূতাবাসের প্রেস সচিব মহম্মদ তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি তারিক চয়ন নামেই বেশি পরিচিত। দূতাবাসের পদে যোগদানের আগে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন নামজাদা সাংবাদিক। তিনি জানাচ্ছেন, তখন শেখ হাসিনার জামানা। বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় দৈনিকের সাংবাদিক হিসেবে তাঁকেই প্রথম এক প্রশ্নের জবাবে মহম্মদ ইউনুস বলেছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান।
ফেসবুকে তারিক লিখেছেন, সম্প্রতি সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মহম্মদ ইউনুস স্যার বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। এ নিয়ে চারদিকে তোলপাড়৷ কিন্তু, এটা-ই প্রথম নয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে (২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি) আমাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি একই কথা বলেছিলেন। আমার ভুল না হলে, আমাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারেই তিনি এমন কথা আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বপ্রথম বলেছিলেন। আমি তখন মানবজমিনে।
বক্তব্য তারিখ চয়নের বক্তব্য, দেশে তখন হাসিনা সরকারের জমানা। মহম্মদ ইউনুসের সেই ভিডিও ইন্টারভিউ থেকে সেই কারণে স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত প্রসঙ্গটি বাদ দেওয়া হয়। তারিক এখন পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি তাঁর ফেসবুক এবং ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে মহম্মদ ইউনুস বলেছেন, তিনি তখন বিদেশে। সেখানে খবর পান সেনা অফিসার জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।
এদিকে, সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে বলা ইউনুসের বক্তব্য খারিজ করতে কোমর বেঁধে নেমেছে আওয়ামী লিগ। সাবেক শাসক দলের দাবি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত বার্তা নিরাপত্তা বাহিনীর টেলিগ্রাম মারফত ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। চট্টগ্রামে কর্মরত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর বার্তাটি পাঠ করেন। যদিও তিনি বঙ্গবন্ধুর নাম নেননি। পরদিন স্থানীয় আওয়ামী লিগ নেতৃত্ব মেজর জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বলেন, তাঁর ঘোষণাকে হাতিয়ার করে পাকিস্তান সরকার স্বাধীনতা যুদ্ধকে সেনা অভ্যুত্থান বলে দাবি করতে পারে বাকি বিশ্বের কাছে। তাঁরা আরো বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা রাজনৈতিক নেতৃত্বের তরফেই হওয়া উচিত। সেই পরামর্শ মেনে জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ সকালে ফের বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন।