দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে পালিত হল সে দেশের সশস্ত্র বাহিনী দিবস। এবছর দিনটি উদযাপনের বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বব্যাপী দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরা।

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে পালিত হল সে দেশের সশস্ত্র বাহিনী দিবস
শেষ আপডেট: 25 November 2025 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে পালিত হল সে দেশের সশস্ত্র বাহিনী দিবস। এবছর দিনটি উদযাপনের বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বব্যাপী দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরা।
এই বিশেষ দিনটি উদযাপন উপলক্ষে হাই কমিশনের প্রতিরক্ষা শাখা হাই কমিশনের মিলনায়তনে এক সংবর্ধনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশনস, বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা/অ্যাটাশে এবং কূটনীতিক, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক, নয়াদিল্লিতে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্য এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সোমবার বাংলাদেশ সেনা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সেনা দিবস পালন করে ২১ নভেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করেছিল।
দিল্লির অনুষ্ঠানটি ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয়। স্বাগত ভাষণে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ হাফিজুর রহমান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের বীর সেনানীদের মহৎ ত্যাগের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। সম্মানিত অতিথিদের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ–ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর দেশিয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ভারতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং দুই দেশ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় গভীরভাবে পরস্পর-সংযুক্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সম্পর্ক প্রবঞ্চনা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়ে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি স্বীকার করেন যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ ও সংবেদনশীল বিষয় বিদ্যমান। উভয় দেশের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে জ্ঞান, দূরদর্শিতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি নতুন সুযোগগুলি কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। তাঁর ভাষণে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং সেই যুদ্ধে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনীশ লুথরা তাঁর ভাষণে বাংলাদেশ ও ভারতের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দুই দেশ প্রয়োজনে সবসময় পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং যৌথ ত্যাগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন এই অনন্য বন্ধুত্বের ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ককে ‘উল্লেখযোগ্য ও আদর্শ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনানীদের প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনার সম্মাননা প্রদান করেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জাতীয় উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় অবদানের ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রদর্শিত হয়।