বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সে দেশের অপরাধ আদালত ইতিমধ্যে সাজা ঘোষণা করেছে। দু'জনকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তারপরও অন্তর্বর্তী সরকার কেন আইসিটিতে মামলা করার কথা বিবেচনা করছে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

শেষ আপডেট: 21 November 2025 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রত্যর্পণ চুক্তি মেনে শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) ফিরিয়ে দিতে ভারত সরকারকে অনুরোধ জানানোর কথা আগেই জানিয়েছে বাংলাদেশ (Bangladesh News)। ফের আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি।
বাংলাদেশ সরকারের এই দুই আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কোন বিতর্কের অবকাশ নেই। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেরও দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। যে পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানালে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন কেন নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত এই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবতে বাংলাদেশ সরকার।
১৯৯৮ সালের রোম সংবিধি অনুযায়ী ২০০২ সালে গঠিত ওই আদালতের এক্তিয়ারে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি তখনই পদক্ষেপ করতে পারে যদি সদস্য দেশের জাতীয় আদালত অভিযুক্তের বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হয়। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সে দেশের অপরাধ আদালত ইতিমধ্যে সাজা ঘোষণা করেছে। দু'জনকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তারপরও অন্তর্বর্তী সরকার কেন আইসিটিতে মামলা করার কথা বিবেচনা করছে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা ট্রাইবুনালের বিচার অবৈধ বলে গোড়াতেই ঘোষণা করেছিলেন শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লিগ। হাসিনা গোড়াতেই বলেছিলেন ইউনুস সরকারের হাতে আমার বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ থাকলে তারা হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করুক। গত সোমবার তাঁর সাজা ঘোষণার দিনও প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লিগ নেত্রী আইসিসির কথা উল্লেখ করেছিলেন। বলেছিলেন, উপযুক্ত প্রমাণ নেই বলেই সরকার আমার বিরুদ্ধে আইসিসিতে মামলা করেনি। এখন ঢাকার ট্রাইবুনাল হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডে সাজা দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার আইসিসিতে যাওয়ার ভাবনার কথা জানিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, ভারতকে চাপে এবং অস্বস্তিতে ফেলতেই এই কৌশল নেওয়ার কথা ভাবছে ইউনুস সরকার। ভারত সাজাপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে ফেরাচ্ছে না, গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই কৌশল বাংলাদেশের।
চলতি বছরে আইসিসি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতা বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে দোষী সব্যস্ত করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বহু মঞ্চে এই দুই রাষ্ট্র প্রধানের সশরীরে উপস্থিত থাকা সম্ভব হচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকায় জি-২০ সম্মেলনে তাঁরা অংশ নিতে পারছেন না। ওই দেশের সরকার তুই নেতাকে জানিয়েছে, তারা আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানাকে অপেক্ষা করতে পারবে না। একই কারণে গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনেও সশরীরে যোগ দেননি পুতিন। তবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তৃতা দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে থাকে। এরমধ্যে হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগের মামলায় রায় দিয়েছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। স্বভাবতই আইসিসিতে বাংলাদেশ সরকারের মামলা করার পরিকল্পনার আসল উদ্দেশ্য নিয়ে অনেকেই সন্ধিহান। মনে করা হচ্ছে হাসিনাকে ফেরানোর ইস্যুটি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলাই অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য।