দুটি হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সংখ্যালঘু বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া সহিংসতার ধারাবাহিক অংশ (Bangladesh Hindu Man Killed)।

হিন্দু যুবক খুন
শেষ আপডেট: 6 January 2026 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন যেন থামার নাম নেই! সোমবার, একই দিনে কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে খুন দুই হিন্দু যুবক (Bangladesh Hindu Man Killed)। গতকাল রাতে নরসিংদী জেলায় মুদি দোকানদার মনি চক্রবর্তীকে (Moni Chakraborty) ধারাল অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়। রাত প্রায় ১০টার দিকে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর মৃত্যু হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই যশোরে খুন হন আরেক হিন্দু ব্যক্তি- পেশায় স্থানীয় এক আইস ফ্যাক্টরির মালিক এবং সাংবাদিক রানা প্রতাপ (Rana Pratap)।
৪৫ বছরের রানা প্রতাপকে সোমবার সন্ধ্যায় কয়েকজন লোক তাঁর ফ্যাক্টরি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা তাঁকে একটি গলিতে নিয়ে গিয়ে মাথায় গুলি করে এবং পরে তাঁর গলা কেটে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে সাতটি গুলির খোল উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতাপের মাথায় তিনটি গুলি লাগে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
মনি চক্রবর্তী (Moni Chakraborty) হত্যাকাণ্ডের পর এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর ওপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছিল। কারা আক্রমণ চালিয়েছে, তা তদন্তাধীন।
এই দুটি হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সংখ্যালঘু বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া সহিংসতার ধারাবাহিক অংশ (Bangladesh Hindu Man Killed)। গত শনিবার ঝিনাইদহে এক হিন্দু বিধবা মহিলাকে দুই ব্যক্তি ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ (Hindu Widow)। এমনকি গাছে বেঁধে চুল কেটে দেওয়া হয়। এরপর সেই ভিডিও রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
গত সপ্তাহে ৩১ ডিসেম্বর, মানিকগঞ্জে ৫০ বছর বয়সী খোকন চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে মারা হয়। ওষুধ ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসা করতেন তিনি। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করলেও তিনদিন পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
তারও আগে, ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে বজেন্দ্র বিশ্বাস নামের এক হিন্দু সেনা-সহায়ক বাহিনীর কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত নোমান মিয়া তাঁর সহকর্মী ছিলেন।
২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়িতে অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার ঠিক ছয় দিন আগে ময়মনসিংহে কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাসকে (Dipu Das Murder) পিটিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়। এই ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকেও তীব্র নিন্দার মুখে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে।
সংখ্যালঘুদের ওপর এই ক্রমবর্ধমান হামলা নিয়ে ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ-সহ সংখ্যালঘুদের উপর লাগাতার আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”