বাংলাদেশের নরসিংদীতে ফের সংখ্যালঘু হিন্দু নিধন। ঘুমন্ত অবস্থায় এক হিন্দু গ্যারাজ শ্রমিককে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে বলে অভিযোগ।

চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক
শেষ আপডেট: 25 January 2026 10:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের (Bangladesh hindu killed) উপর হিংসার আরও এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেল। দিপু দাসের নারকীয় হত্যার মতই এই ঘটনাও নারকীয়। ঢাকার কাছেই নরসিংদীতে এক গ্যারাজের ভিতরে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে মারা হল এক তরুণ হিন্দু শ্রমিককে (garage worker)। মৃতের নাম চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক (২৩) (Chanchal Chandra Bhowmik)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশ-এর নরসিংদী শহরে, যা রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। চঞ্চল কুমিল্লা জেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। নরসিংদী পুলিশ লাইনের খানাবাড়ি মসজিদ মার্কেট এলাকায় একটি গ্যারাজে কাজ করতেন তিনি।
শুক্রবার রাতে কাজ শেষ করে গ্যারাজের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চঞ্চল। সেই সময়ই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা গ্যারাজে আগুন লাগিয়ে দেয়। গ্যারাজের ভিতরে পেট্রোল, ইঞ্জিন অয়েল-সহ প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় দমবন্ধ ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ওই যুবকের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় করা হত্যা। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে গ্যারাজে আগুন লাগাতে দেখা গেলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক দল অভিযুক্তদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।”
২০২২ সালের জনগণনা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ হিন্দু বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭.৯৫ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতও। বিশেষ করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে একের পর এক হিংসার ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে সংখ্যালঘু মহলে।
এক সপ্তাহ আগেই গাজিপুর জেলায় এক হিন্দু মিষ্টির দোকানিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একই সময়ে সিলেটে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে আগুন লাগানো হয় এবং ফেনিতে এক হিন্দু অটোচালককে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। নরসিংদীর এই ঘটনাকে ঘিরে ফের প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা আদৌ কতটা নিরাপদ?