শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) সঙ্গে অচিরেই দেখা করবেন আওয়ামী লিগের (Awami League) কয়েকজন শীষস্থানীয় নেতা। হাসিনা দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে সূত্রের খবর।

শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 25 July 2025 00:26
শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) সঙ্গে অচিরেই দেখা করবেন আওয়ামী লিগের (Awami League) কয়েকজন শীষস্থানীয় নেতা। হাসিনা দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে সূত্রের খবর। যদিও ভারত সরকার তাঁর অবস্থান সব সময় গোপন রেখেছে। তিনি দেশ ছাড়ার এক বছরের মাথায় তাঁর সঙ্গে মুখোমুখী বৈঠকে বসতে চলেছেন শীর্ষ নেতাদের একাংশ। ভারত সরকার (Govt of India) এই ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছে।
দিল্লির কর্তারা সবুজ সংকেত দেওয়া। হাসিনার নিকট আত্মীয়রাও সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন তাঁর খুডতুতো, মাসতুতো ভাই ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। গত বছর ৫ অগস্ট হাসিনা দেশ ছাড়ার পর নিকট আত্মীয়দের অনেকেও বিপদের মুখে ভারতে চলে আসেন। তাঁদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের কয়েকজন আওয়ামী লিগের নেতা এবং সাবেক সাংসদ।

দেশ ছাড়ার সময় হাসিনার সঙ্গী ছিলেন শুধু তাঁর বোন শেখ রেহানা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক প্রধান হওয়ার সুবাদে হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আগে থেকেই দিল্লিতে আছেন। গত কুরবানির ইদের সময় মায়ের সঙ্গে দিন সাতেক কাটিয়ে গিয়েছেন হাসিনার মার্কিন প্রবাসী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ সভানেত্রী হাসিনার নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে তাঁর অবস্থান নিয়ে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করে আসছে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শুধু নিরাপত্তাই নয়, একজন অতিথি রাষ্ট্রপ্রধানকে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্যও তাই বরাদ্দ আছে। নিয়মিত তাঁর শরীর-স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। বাংলোয় তাঁর জন্য একটি অফিস বরাদ্দ আছে। ভারত সরকারের পদস্থ আধিকারিকেরা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অফিসের কাজকর্ম দেখভাল করেন।
তবে এতদিন হাসিনার সঙ্গে মেয়ে পুতুল, তাঁর সম্তান এবং দিল্লিতে পরিচিত কয়েকজনকেই দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লিগ সূত্রের খবর, দলের পক্ষে এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দলনেত্রী তথা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন।
ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে একই মামলায় অভিযুক্ত হাসিনা ও কামাল। সেই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, মামলা নিয়ে আলোচনার জন্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়।
আওয়ামী লিগের অনেক নেতাই দিল্লিতে আছেন। কেউ এক-দু’বার গিয়েছেন। কিন্তু নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি। তবে টেলিফোনে অনেকের সঙ্গেই কথা বলেন হাসিনা। যদিও সেই সংখ্যাও সীমিত। তবে ভারতে আসার কিছুদিন পর থেকেই ফেসবুকে ভাষণ দিয়ে দল ও দেশবাসীর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লিগে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক মিলিয়ে ৮১ জনের সম্পাদকমণ্ডলী আছে। তাঁদের নয়জন প্রেসিডিয়াম সদস্য। তবে হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাদে এখন ভারতে আছেন মাত্র দু’জন প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাঁদের একজন এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ভারতে চলে এলেও দলের কাজে তাঁকে যুক্ত করা হয়নি পার্টির অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে। আর এক প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেন মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেল হোসেন চৌধিরী মায়া। প্রেসিডিয়ামের পরে আছে সম্পাদকমণ্ডলী। সেই কমিটির সদস্য ৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে সাত-আট জন ভারতে আছেন বলে খবর। এছাড়া আছে কেন্দ্রীয় কমিটি ২৭ জন। তাঁদেরও হাতেগানা কয়েকজন ভারতে আছেন। শীর্ষ নেতাদের কতজন শেষ পর্যন্ত হাসিনার সাক্ষাৎ পাবেন তা স্পষ্ট নয়। আওয়ামী লিগ নেত্রীর ইচ্ছায় ভারত সরকার চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেবে। আগামী শনিবারই এই সাক্ষাৎ হতে পারে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গিয়েছে।