বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেফতার করল গোয়েন্দা পুলিশ। মুজিব হত্যাকাণ্ডের রায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি।

প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে গ্রেফতার কেন?
শেষ আপডেট: 24 July 2025 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে বৃহস্পতিবার সকালে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা তিনটি মামলার একটিতে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হবে।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক বাংলাদেশে বেশ আলোচিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর বেশ কিছু রায় নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে এখনও বিতর্ক আছে।
২০১০ সালে দেশের উনিশতম প্রধান বিচারপতি হন তিনি। ক্ষমতায় তখন শেখ হাসিনার সরকার। পরের বছর তিনি অবসর নেন। মাত্র কয়েকমাস শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেন। ওই ব্যবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিধান ছিল। ওই রায়ের কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি মানেননি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধী দল বিএনপি ওই রায়ের জন্য বিচারপতি হকের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত ছিল। সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অন্যতম মামলাকারীও একজন বিএনপি নেতা।
বিচারপতি হক ধর্মীয় ফতোয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রায় দেন। এছাড়া হাই কোর্ট বিভাগে থাকাকালে খায়রুল হক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলার রায় দেন। সেই রায়ে অভিযুক্তদের কঠোর সাজা দেয় আদালত। বিচারপতি হকই এক মামলায় রায় দেন, শেখ মুজিবই স্বাধীনতার ঘোষক।
এছাড়া বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর কিছু অংশ তিনি বাতিল করেন এক রায়ে। পঞ্চম সংশোধনীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারি করা সকল সামরিক আইন, আদেশ, বিধিকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৫-এর ১৫ অগস্ট বিক্ষুব্ধ সেনার হাতে খুন হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান৷
বাংলাদেশের রাজধানীর দূষিত চার নদী সংরক্ষণে এখন নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে প্রথম রায় দেন এই বিচারপতি।
আওয়ামী লিগ নেতৃত্ব মনে করছে বিচারপতি হকের গ্রেফতার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মিথ্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতিকে কারাগারে বন্দি করা হচ্ছে।