জানা যাচ্ছে, আওয়ামী লিগের ওই অনুষ্ঠান নিয়ে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের পক্ষ থেকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

শেষ আপডেট: 24 July 2025 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোপালগঞ্জ-সহ বাংলাদেশে ‘গণহত্যা’ (Bangladesh Genocide) নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রচার শুরু করেছে আওয়ামী লিগ (Awami League)। শেখ মুজিবুর রহমান (Sheikh Mujibur Rahaman) ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) জন্মস্থান গোপালগঞ্জেই (Gopalganj) রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সমাধি। সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধ নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তাতে পাঁচজন মারা যান। গুলিবিদ্ধ বহু মানুষ চিকিৎসাধীন। শুধু ওই একটি জেলা শহর থেকেই আওয়ামী লিগের আট হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।
আওয়ামী লিগ নেত্রী হাসিনার বক্তব্য, গোপালগঞ্জে পাক বাহিনীর মতো করে গণহত্যা চালিয়েছে বাংলাদেশ সেনা। স্বাধীনতার পর কোথাও কখনও সেনাবাহিনী দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে এমন অত্যাচার চালায়নি। আওয়ামী লিগ ওই ঘটনা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছে। সেটি রাষ্ট্রসংঘ, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশন, ইউরোপিও কমিশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালেক কাছে জমা দিয়েছে।
ওই ঘটনা নিয়ে দিল্লিতেও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল শেখ হাসিনার দল। গত বছর ৫ অগস্ট থেকে হাসিনা ভারতে আছেন। তিনি সমাজমাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আওয়ামী লিগ দলগতভাবে কোনও প্রকাশ্য কর্মসূচি পালন করেনি। দিল্লি প্রেসক্লাবে তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি গোপালপঞ্জ-সহ গোটা বাংলাদেশে মানবাধিকার হরণ নিয়ে আওয়ামী লিগের সাবেক মন্ত্রী, সাংসদ, নেতাদের বক্তব্য পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার বিকালের ওই অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে বাতিল করেন উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (Bangladesh Human Rights Watch) নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে দিল্লি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল।
উদ্যোক্তারা জানান, ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমান দুর্ঘটনায় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মৃত্যুতে শোক জানাতেই তাঁরা অনুষ্ঠানটি স্থগিত রাখছেন। যদিও বিমান দুর্ঘটনাটি হয় সোমবার দুপুরে এবং ওইদিন রাতের মধ্যেই মৃতের সংখ্যা ২৭ ছাড়িয়ে যায়। বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন আরও এক শিশু পড়ুয়া মারা গিয়েছে। মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৩২। ফলে বিমান দুর্ঘটনার কারণে অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার জন্য শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।
জানা যাচ্ছে, আওয়ামী লিগের ওই অনুষ্ঠান নিয়ে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের পক্ষ থেকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। দূতাবাসের বক্তব্য, আগামী ৫ অগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি নিয়ে বাংলাদেশে নানা উদ্যোগ আয়োজন চলছে। এই সময় সাবেক শাসক দল ঘরোয়া বিষয় নিয়ে দিল্লিতে সরব হলে দেশে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে। দু-দেশের সম্পর্কের মধ্যেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় হাই কমিশনের পক্ষ থেকে। জানা গিয়েছে, বিদেশ মন্ত্রকের কর্তারা বাংলাদেশ হাই কমিশনের বক্তব্য উদ্যোক্তাদের জানিয়ে দেন।
তবে বিদেশ মন্ত্রক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনও পরামর্শ বা নির্দেশ উদ্যোক্তাদের দেয়নি বলেই সরকারি সূত্রের খবর। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়। ভারত সরকারের তরফে উদ্যোক্তাদের বলা হয়ছিল বাংলাদেশে কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির কারণে দু-দেশের সম্পর্কের ক্ষতি ভারতের কাছে কাম্য নয়।
দিল্লির ওই অনুষ্ঠানটি বেশ করে আকারে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ দিল্লি গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানটির মূল আয়োজক ছিলেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্তা মহম্মদ আলি সিদ্দিক। তিনি সরাসরি শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিলেন। হাসিনা দলের একাধিক ভার্চুয়াল সভায় গোলাপগঞ্জ-সহ গোটা বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সরব হয়েছেন।