আগামীকাল সোমবার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় রায় ঘোষনা করবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। সকাল ন'টায় ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ রায় ঘোষণা শুরু করবেন।

শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 16 November 2025 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামীকাল সোমবার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় রায় ঘোষনা করবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। সকাল ন'টায় ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ রায় ঘোষণা শুরু করবেন। রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া দেবেন শেখ হাসিনা। ট্রাইবুনালে তরফে জানানো হয়েছে সোমবার হাসিনা সাজা ঘোষণার পর্বটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এই প্রথম কোন মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজার মুখে পড়তে চলেছেন শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপক্ষ তথা মহম্মদ ইউনুস সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে দায়ের হওয়া এই মামলায় অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি এই মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছেন।

আদালতে তাঁর বক্তব্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানকে আরও জোরদার করেছে। গতবছর জুলাই আগস্ট আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারে হবে প্রধানমন্ত্রী ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে আদালতে দাবি করেছেন এই প্রাক্তন পুলিশ কর্তা। রাজসাক্ষী হওয়ায় তাঁর সাজার পরিমাণ কম হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। সরকারপক্ষ তাঁর কঠোর সাজা দাবি করেনি।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালেরও মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে সরকার পক্ষ। বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ফাঁসি অথবা ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হত্যার মধ্য দিয়ে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি হাসিনা ও কামালের যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আরজিও সরকারপক্ষ জানিয়েছে ট্রাইবুনালের কাছে।
শেখ হাসিনা তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের মতই রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার জেলে গিয়েছেন। তবে কোন মামলাতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজার মুখোমুখি হননি। বিচারাধীন আসামি হিসাবে কারাগারে কাটিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আদালত অবমাননার একটি মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে ছিল। সেই মামলায় আদালত প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কোন সাজা ঘোষণা করেনি। হাসিনার আইনজীবীকে আদালতের বক্তব্য লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে জানা যায় আদালতের তরফে তাকেঊ সতর্কতার সঙ্গে মন্তব্য করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাইবুনালের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করা হবে ধরে নিয়ে আওয়ামী লিগ রবি ও সোমবার বাংলাদেশের শাটডাউনের ডাক দিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের বিচার সংক্রান্ত সংস্থার কাছে শেখ হাসিনার তরফে হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। হাবিব প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ট্রাইবুনালে বিচার সম্পূর্ণ বেআইনি। তার অনুপস্থিতিতে শুনানি করে সাজা ঘোষণা সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ নভেম্বর ট্রাইবুনাল জানিয়েছিল শেখ হাসিনার মামলায় সাজা ঘোষণা করা হবে ১৭ নভেম্বর সোমবার। ওইদিন আওয়ামী লিগের ডাকে ঢাকায় লকডাউন এর কর্মসূচি পালিত হয়। দলের দাবি, শেষ পর্যন্ত শুধু রাজধানী নয়, বাংলাদেশের কমবেশি সব জেলাতেই লকডাউনের পক্ষে মানুষের সাড়া পাওয়া গিয়েছে। বহু মানুষ সেদিন স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হননি। আওয়ামী লিগ আশা করছে সোমবার হাসিনা সাজা ঘোষণার দিনে দেশের মানুষ বাড়ি থেকে বের হবেন না। দেশ অচল করার সংকল্প নিয়ে কোমর বেঁধে প্রস্তুতি নিয়েছে শেখ হাসিনার দল। দলের তরফে এক প্রবীণ নেতা বলেন সোমবার ঢাকার থেকেও জেলাগুলিতে শাটডাউন অনেক বেশি সফল হবে। তাঁর বক্তব্য রাজধানী সচল রাখতে ইউনুস সরকার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছে যাতে কর্মীরা অফিসে আসেন। ১৩ নভেম্বর বেশ কিছু বেসরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করেছিল। তাদেরও প্রশাসনের তরফে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে কোন অবস্থাতেই শিক্ষাঙ্গন বন্ধ রাখা বন্ধ রাখা যাবে না।
দেশ সচল করতে সক্রিয় মহম্মদ ইউনুসের প্রশাসন রবিবার থেকে ঢাকা সহ বিভিন্ন শহরের রাজপথের দখল নিয়েছে সেনা ও পুলিশ। সঙ্গে আছে বিজিবি আনসার ও র্যাব।
১৩ নভেম্বর লকডাউনের দিন আওয়ামী লিগের মোকাবিলায় পথে নেমেছিল বিএনপি এবং জামাতও। জামাতি ইসলামিসহ ৮ দলের জোট রবিবার ঢাকায় সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেছে, সোমবার তারা রাজপথে সক্রিয় থেকে আওয়ামী লিগের
শাটডাউন বানচাল করে দেবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আট দলের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমরা অতীতের কর্মসূচিতেও মাঠে ছিলাম, এবারও ফ্যাসিবাদের পক্ষে নাশকতার কোনো সুযোগ জাতি দেবে না। আওয়ামী লিগ এটার সুযোগ পাবে না। আমরা আটদল মাঠে থাকব।