ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এ বছর শরৎ উৎসব করার অনুমতি দেওয়া হল না। এই অনুমতি দিয়ে থাকে চারুকলা অনুষদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বকুলতলায় শরৎ উৎসব। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 10 October 2025 19:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এ বছর শরৎ উৎসব করার অনুমতি দেওয়া হল না। এই অনুমতি দিয়ে থাকে চারুকলা অনুষদ।
বিগত দু দশকের ঐতিহ্য বজায় রাখতে শরৎ উৎসবের উদ্যোক্তা সত্যেন সেন শিল্প গোষ্ঠী ঢাকার গেন্ডারিয়ায় কচিকাঁচা স্কুল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠানটি করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে আবার আপত্তি তুলে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সেখানেই ছোট করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নাচ গান বাদ দিয়ে শুধু জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং সদ্য প্রয়াত লালন শিল্পী ফরিদা পারভীনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
চারুকলা অনুষদ অবশ্য অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা জানিয়েছে শনিবার এই বিষয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে সেখানে উদ্যোক্তারাও থাকবেন।

গত বছরও নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে শরৎ উৎসব পালিত হয় ঢাকায়। ফাইল চিত্র।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় প্রতিটি ঋতু উদযাপন করা হয়ে আসছে গত প্রায় ২০ বছর হল। এর মধ্যে শরৎ, বসন্ত ও বর্ষা ঋতু পালনের আয়োজন করে শচীন সেন শিল্প গোষ্ঠী। শিল্প গোষ্ঠীর পরিচালক মানজার চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন দুই জায়গাতেই তাদের বাধা দেওয়া হয়। হলে দু দশকের মধ্যে এই প্রথম অনুষ্ঠানে ছেদ করল। তিনি জানান বিগত বছরগুলির মত এবারও পুজোর আগে থেকেই শরৎ উৎসবের জন্য রিহার্সাল হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে মূলত নাচ-গান কবিতা গল্প পাঠের মধ্য দিয়ে শরৎ ঋতু পালন করা হয়।
উদ্যোক্তারা মুখে কিছু না বললেও জানা গিয়েছে সরকারের শীর্ষ মহল থেকে এই ব্যাপারে তাদের উপরে চাপ তৈরি করা হয়েছিল। যাতে শরৎ উৎসব আয়োজনের অনুমতি না দেওয়া হয়।
বলা হচ্ছে উদ্যোক্তারা ফ্যাসিস্ট শক্তির দোসর। বাংলাদেশে গত বছর ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি মহল ফ্যাসিস্ট বলেই উল্লেখ করে আসছে। তাতে গলা মিলিয়েছে বিএনপি এবং জামাতও। যদিও ১৯ বছর আগে এই উৎসব চালুর সময় বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিল বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ আরও জানাচ্ছে, অনুষ্ঠানে বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মৌলবাদী শক্তিগুলি আপত্তি তুলে আসছে। তাদের আরও বক্তব্য, এরমধ্যে হিন্দুয়ানির ছোঁয়া আছে। বাংলার নববর্ষের দিন মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন নিয়েও একই আপত্তি করে আসছে মৌলবাদী সংগঠনগুলি। এর আগে বাংলাদেশে ইউনুস জামানায় লালন মেলা, ঢাকা মহানগর নাট্য উৎসব, সব যাত্রা উৎসবেও আপত্তি তোলা হয়। সব ক্ষেত্রেই মৌলবাদীদের আপত্তির কাছে প্রশাসন মাথা নত করে। যদিও প্রশাসন দাবি করে আপত্তির কারণ রাজনৈতিক। উদ্যোক্তারা সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের তোষামোদকারী হিসাবে পরিচিত। হাসিনা জমানায় তারা সরকারের নানা অপকর্ম সমর্থন করে। সেই কারণেই বহু মানুষ এখন তাদের অনুষ্ঠান করতে দিতে আপত্তি তুলছে।
প্রসঙ্গত ঢাকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা সহ নববর্ষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে চারুকলা অনুষদ। এবছর বাংলার নববর্ষে সেই অনুষ্ঠান করা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল মৌলবাদীরা মঙ্গল শোভাযাত্রায় তুমুল আপত্তি তোলে। শেষ পর্যন্ত নানামহলের চাপে সরকার নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিলে চারুকলা অনুষদ নববর্ষের অনুষ্ঠান উদযাপন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের প্রধান আজহারুল ইসলামের বক্তব্যও সত্যেন সেন শিল্প গোষ্ঠীর এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে চারুকলা বিভাগ যুক্ত। অধ্যাপক ইসলাম বলেন, চারুকলা অনুষদের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা মহল থেকে আপত্তি তোলায় অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে।
সত্যেন সেন শিল্প গোষ্ঠীর পক্ষে মানজার চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে চারুকলা অনুষদ তাদের অনুমতি বাতিলের বিষয়টি জানায়। তিনি বলেন এই উৎসব আমরা ১৯ বছর ধরে করছি। হঠাৎ আমাদের ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হল। তাঁর প্রশ্ন প্রকৃতির বন্দনায় বিএনপি, আওয়ামী লিগ বা ফ্যাসিবাদের প্রশ্ন কেন আসছে।