Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
Supreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্লI PAC-Vinesh Chandel: ভোর পর্যন্ত আদালতে শুনানি, ১০ দিনের ইডি হেফাজতে আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ'নিষিদ্ধ' ভারতীয় গানে প্রয়াত আশা ভোঁসলেকে শেষ শ্রদ্ধা! পাক চ্যানেলকে শোকজ, সমালোচনা দেশের ভিতরেই হরমুজ মার্কিন নৌ অবরোধে কোণঠাসা ইরান! তেল রফতানি প্রায় থমকে, দিনে ক্ষতি ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারIPL 2026: আইপিএল অভিষেকে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স! কে এই সাকিব হুসেন? ৪৯ লাখের টিকিট থাকা সত্ত্বেও বোর্ডিং বাতিল! বিমান সংস্থার সিইও-র বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ আদালতেরশ্রমিকদের বিক্ষোভে অশান্ত নয়ডা! পাক-যোগে ষড়যন্ত্র? তদন্তে পুলিশ, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০০ নিজেকে ‘যিশু’ সাজিয়ে পোস্ট! তীব্র বিতর্কের মুখে ছবি মুছলেন ট্রাম্প, সাফাই দিয়ে কী বললেন?

বাংলাদেশে হাসিনা ঘনিষ্ঠ আর এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার, তারেকের নিশানায় আরও ১১৩

বাংলাদেশে আরেক সাবেক সেনাকর্তা মহম্মদ আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। ‌তিনি দু দশক আগে সে দেশে ক্ষমতাসীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ছিলেন।

বাংলাদেশে হাসিনা ঘনিষ্ঠ আর এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার, তারেকের নিশানায় আরও ১১৩

শেষ আপডেট: 30 March 2026 13:50

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে আরেক সাবেক সেনাকর্তা মহম্মদ আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। ‌তিনি দু দশক আগে সে দেশে ক্ষমতাসীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ছিলেন।

সেই সময় সেনা বাহিনীর যে অফিসারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাজনীতি এবং ব্যবসায়ীদের গণহারে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছিল সেই তালিকায় নাম ছিল আফজাল নাছেরের।

এর পাশাপাশি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের ওপর কারাগারে এবং সেনা হেফাজতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল আরো অনেকের সঙ্গে এই অফিসারের বিরুদ্ধেও।

ঢাকা সরকারি সূত্রের খবর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আইন ভেঙে অতি সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া অফিসারদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। বাংলাদেশ পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১১৩ জন এমন অফিসারকে চিহ্নিত করেছে।‌ তাদের কয়েকজন এখনও সেনাবাহিনীতে কর্মরত। সরকারি সূত্রের খবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সক্রিয় অফিসারদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে ১১৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।‌

বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে তারা এখনই সব অভিযুক্ত অফিসারকে হেফাজতে নিতে চাইছে না। ধৃত অফিসারদের জেরা করে যাদের নাম আসছে পর্যায়ক্রমে সেই অফিসারদের গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকার ও সেনা এবং পুলিশ মহলের ধারণা একসঙ্গে এত অফিসারকে হেফাজতে নিলে সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। সেই কারণেই জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে নাম উঠে আসা অফিসারদের হেফাজতে নেওয়া শুরু হয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, গ্রেফতারি এড়াতে এই অফিসারদের একাংশ দেশ ছাড়তে চাইলেও অনুমতি মেলেনি। কেউ কেউ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও নয়া দিল্লির তরফে সাড়া মেলেনি।

গত দিন দশেকের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয় সাবেক সেনা কর্তাকে হেফাজতে নিল বাংলাদেশ পুলিশ। প্রথমে গ্রেফতার করা হয় সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে। তাঁদের জেরার সূত্র ধরে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত ধৃত এই তিন অফিসারের বিরুদ্ধেই রাজনীতিকদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার এবং নিপীড়ন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ছিল। ওই সময় সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। একই অভিযোগে গ্রেফতার হন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। কিছুদিন পরেই অভিযোগ ওঠে কারাগারে এবং সেনা হেফাজতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের ওপর অপরিসীম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলছে। এক পর্যায়ে তারেক রহমানের মেরুদণ্ডে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। তিনি সহকারী ছাড়া চলাফেরা করতে পারছিলেন না। ওই সময় তার মায়ের বিশেষ অনুরোধে তারেক রহমানকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার পর তিনি লন্ডন চলে যান। সেই তিনি এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর একমাস পেরোতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার সেনা অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন। যদিও তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার কোনও অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার এবং জুলাই আন্দোলন দমনে আওয়ামী লিগ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিএনপি'র অভিযোগ ধৃত অফিসারেরা ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লিগকে ক্ষমতায় আনতে নানাভাবে ভূমিকা নিয়েছিলেন। নির্বাচন অবাধ হবে না জেনেও তারা বিএনপিকে ২০০৮-এর ভোটে অংশ নিতে বাধ্য করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের খবর ধৃত অফিসারদের আওয়ামী লিগ তথা শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা অন্যতম কারণ। জানা যাচ্ছে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় ধৃত অফিসারদের নাম জড়িয়ে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের পথ খোলা হচ্ছে। এরফলে তাদের জামিন পাওয়ার রাস্তা আটকে যেতে পারে।


```