বাংলাদেশি পরিযায়ী শ্রমিকদের দলটির কয়েকজন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছেন। গ্রিসে পৌঁছানোর পর তাঁরা দেশে যোগাযোগ করে গোটা ঘটনা জানিয়েছেন।
.jpg.webp)
সমুদ্রে অনাহারে মৃত ২২
শেষ আপডেট: 29 March 2026 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজের সন্ধানে তারা গিয়েছিলেন লিবিয়ায়। উত্তর আফ্রিকার ওই দেশে প্রত্যাশা মত কাজ না মেলায় দালালের কথায় সদলবলে পাড়ি দিয়েছিলেন গ্রিসের (Greece) উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ সমুদ্র সফরে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন।
মৃতদের ১২ জন বাংলাদেশের (Bangladesh) নাগরিক। তারা সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। দিরাই উপজেলার চারজন, দোয়ারা বাজারের একজন ও জগন্নাথপুরের পাঁচজন রয়েছেন বলে স্থানীয় নানা সূত্রে জানা গেছে।
জানা গিয়েছে মাঝ সমুদ্রে খাবার ও পানীয় জলের (Drinking Water) অভাবে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে ওই ২২ পরিযায়ী শ্রমিক (migrant workers)। বাকি ১২ জন লিবিয়া ও আশপাশের দেশের বাসিন্দা। দালালরা মৃতদেহ গুলি সমুদ্রে ফেলে দেয় বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশি পরিযায়ী শ্রমিকদের দলটির কয়েকজন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছেন। গ্রিসে পৌঁছানোর পর তাঁরা দেশে যোগাযোগ করে গোটা ঘটনা জানিয়েছেন।
ঢাকার একটি সংবাদপত্রের সুনামগঞ্জের সংবাদদাতা উমেদ আলী জানান, তাঁর ভাগনে নুরুজ্জামান সরদার ময়না ওই নৌযানটিতে ছিল। সে মারা গিয়েছে বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন। একই গ্রামের রোহান আহমেদ গ্রিস থেকে পরিবারকে জানিয়েছেন, তিনিও একই নৌকায় ছিলেন ছিলেন। তিনি দেখেছেন অন্তত চারজনের দেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জের জেলাশাসক মহম্মদ ইলিয়াস মিয়া এবং পুলিশ সুপার সুজন সরকার বলেন যে দালালরা পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে গিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় আজিজুল ইসলাম নামে একজন দালালের নাম পুলিশ জানতে পেরেছে। মৃতদের পরিবার জানিয়েছে প্রত্যেকের কাছ থেকে সে বারো লাখ টাকা করে নিয়েছিল। আজিজুল লিবিয়ায় থাকে। সে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে শ্রমিকদের লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে বিভিন্ন দেশে পাচার করে। সুনামগঞ্জ পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। লিবিয়া সরকারকে অনুরোধ করা হবে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দিতে।
সুনামগঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে তারা একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়েছে নৌকাটি ছয় দিন দিকভ্রান্ত অবস্থায় সমুদ্রে ভেসে বেড়াচ্ছিল। এর ফলে সেটির খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় জল ফুরিয়ে যায়।