শুধু রাজধানীর ঢাকাতেই গত নয় মাসে ৪৯২টি বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া গেছে। তাঁদের প্রায় প্রত্যেকের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গত বছর একই সময়ে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা ছিল ৩৭৮। তারমধ্যে অগস্ট থেকে ৪ মাস ক্ষমতায় ছিল মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার।

প্রতীকি ছবি. গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 11 October 2025 17:01
মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের একাধিক মন্ত্রী-এমপি এবং শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে সাবেক ও কর্মরত মিলিয়ে ২৪ জন সেনাকর্তার নাম। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অভিযোগের তালিকায় এক নম্বরে আছে গুম খুন। অর্থাৎ অপহরণ করে হত্যা এবং দেহ লোপাট করে দেওয়া। এই অভিযোগ সংক্রান্ত প্রথম মামলায় চলতি মাসেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আজ ঘোষণা করতে পারে টাকার ট্রাইবুনাল। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের চোদ্দ মাস পরেও বাংলাদেশে গুম খুন কি বন্ধ হয়েছে?
এই প্রশ্ন উত্তাপিত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে। তাতে বলা হয়েছে, শুধু রাজধানীর ঢাকাতেই গত নয় মাসে ৪৯২টি বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া গেছে। তাঁদের প্রায় প্রত্যেকের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গত বছর একই সময়ে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা ছিল ৩৭৮। তারমধ্যে অগস্ট থেকে ৪ মাস ক্ষমতায় ছিল মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার।
ইউনুস সরকার ক্ষমতাসীন হয়েই গুম খুনের বিরুদ্ধে সরব হয়। হাসিনার জমানায় সরকারি বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ভিজিএফআই সরকারের সমালোচকদের তুলে নিয়ে হত্যা করত বলে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল। যদিও হাসিনা সরকার দাবি করে আসছিল, এমন কোনও অপরাধের সঙ্গে সরকারি বাহিনী যুক্ত নয়। নিখোঁজ ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় গা ঢাকা দিয়েছেন। তারা কেউ ঋণ খেলাপি। কেউ পারিবারিক অশান্তি কারণে নিখোঁজ। কেউ আবার গুরুতর অপরাধে যুক্ত। কারণ যাই হোক না কেন ঢাকার রাস্তায় বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে এত খুন করছে কে বা কারা। নিহতদের পরিচয়ই বা কী। পুলিশ কেন মিসিং ডায়েরিকে বিবেচনায় নিয়ে মৃতদের পরিচয় যাচাই করছে না।
অজ্ঞাত পরিচিতদের খুন হওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই মনে করছেন কোন বিশেষ খুনে বাহিনীকে এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। তারাই সরকার বিরোধীদের গুম খুন করছে। এই ব্যাপারে ওয়াকিবহাল অনেকেই মনে করছেন গুম খুন বন্ধ হয়নি বরং ভোল বদলে তা সংখ্যায় আরও বেড়ে গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর বাংলাদেশে নিখোঁজ এর সংখ্যাও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে। তাদেরই একাংশকে সন্ত্রাসীরা খুন করেছে বলে বিভিন্ন মহলের আশঙ্কা। খুনের উদ্দেশ্যেই তাদের অপহরণ করা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিয়ে গোড়া থেকেই উদ্বেগ বজায় আছে। এই জমানায় এতদিন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল মব হামলা। চিহ্নিত কাউকে হত্যার জন্য মব তৈরি করে পিটিয়ে খুনের ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। একাধিক মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, ২০২৪-এর অগস্ট থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই সময়ে দেশে খুন হয়েছেন ২ হাজার ৮৭৮ জন। মব-সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে ১৯৫টি। এছাড়া, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ৩৫টি। শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ৬৪০টি। জেল ও পুলিশ হেফাজতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৩৫ জন।