ঘুমের আগে ফোন স্ক্রল কমাতে ‘স্মার্ট পিলো’ তৈরি করল গ্লাসগোর বিজ্ঞানীরা। বালিশেই শুনবেন গান, পডকাস্ট—চোখ বন্ধ রেখেই।

শেষ আপডেট: 19 March 2026 12:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত হলেই চেনা দৃশ্য— লাইট অফ, মাথার কাছে বালিশ… আর হাতে মোবাইল (Night Scrolling)। একটু সোশ্যাল মিডিয়া, একটু ভিডিও, একটু খবর, এই করতে করতেই কখন যে ঘুম উধাও হয়ে যায়, টেরই পাওয়া যায় না।
এই অভ্যাসটা ভাঙা যে কতটা কঠিন, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এবার সেই সমস্যার এক অভিনব সমাধান খুঁজে পেয়েছেন স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ গ্লাসগো (University of Glasgow)-র গবেষকেরা।
তাঁদের ভাবনা, ফোন কেড়ে নেওয়া নয়, বরং স্ক্রিনটাই সরিয়ে দেওয়া। আর তার জায়গায় এনে দেওয়া… একটা বালিশ! আর তাতেই হবে ম্যাজিক!
গবেষকদের তৈরি এই ‘স্মার্ট পিলো’ দেখতে একেবারে সাধারণ বালিশের মতো। কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে স্পিকার আর টাচ সেন্সর। তাই দিয়ে, ফোনে স্ক্রল করার বদলে আপনি বালিশটা ছুঁয়ে, চাপ দিয়ে, এমনকি জড়িয়ে ধরে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন গান, পডকাস্ট বা অডিওবুক।

একটা বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে ফোন থেকে অডিও বালিশে চলে আসবে। আর আপনি চোখ বন্ধ করেই শুনতে পারবেন।
ফলে ঘুম আসার আগে একটু নিজের মতো সময় কাটানো একই থাকবে, কিন্তু স্ক্রিনের ঝামেলা থাকবে না।
এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াংহুয়া ডিং। তাঁর কথায়, 'ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার করলে ঘুম আসতে দেরি হয়। পরের দিন ক্লান্ত লাগে, আর দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।'
তবে তিনি এটাও মানছেন, 'ঘুমের আগে ফোন ব্যবহার অনেকের কাছে রিল্যাক্স করার একটা উপায়। এটা পুরোপুরি খারাপও নয়। অনেকের ক্ষেত্রে দরকারিও। তাই এই বালিশের উদ্দেশ্য হল, ভালটা রেখে খারাপটা বাদ দেওয়া।'
প্রথমে এই গবেষণায় খুব সাধারণ একটা ডিজাইন ভাবা হয়েছিল— বালিশ জড়িয়ে ধরলেই গান চালু, আবার জড়িয়ে ধরলেই বন্ধ। তারপর ধীরে ধীরে সেটাকে আরও ‘বন্ধুসুলভ’ করা হয়।
বালিশের ওপর একটা বিড়ালের মুখ এমব্রয়ডারি করা হয়—যাতে চোখ বন্ধ রেখেও বোঝা যায় কোনটা কোথায়।
বিড়ালের কান দুটো দিয়ে ট্র্যাক পাল্টানো যায়, কপালে চাপ দিলে পজ বা প্লে। এমনকি চাপ কতটা দেওয়া হচ্ছে, সেটাও বোঝে—যাতে ঘুমের মধ্যে ভুল করে কিছু না হয়ে যায়।
এই বালিশ ব্যবহার করে দেখেছেন ১৬ জন স্বেচ্ছাসেবী। তাঁদের অভিজ্ঞতা বেশ মজার। কারও মনে হয়েছে, ছোটবেলার খেলনা বা পোষা প্রাণীর মতো—যাকে জড়িয়ে ধরলে একটা আলাদা স্বস্তি পাওয়া যায়। আবার কেউ বলেছেন, এটা নাকি ঘুমের আগে চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
অনেকেই আবার আরও কিছু আইডিয়া দিয়েছেন— বালিশটা যদি অন্য প্রাণীর মতো হয়, বা গানটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আরও ভাল লাগবে।
সে যাই হোক, গবেষকেরা আপাতত প্রাথমিকভাবে তৈরি করা বালিশটাকেই পণ্য হিসেবে বাজারে আনতে চান। তাঁদের আশা, এই বালিশ মানুষকে স্ক্রিনের নেশা থেকে একটু দূরে সরিয়ে, ঘুমের পথে মসৃণভাবে নিয়ে যেতে পারবে।
কারণ, ঘুম তো জোর করে আসে না— তাকে ডেকে আনতে হয়, আলতো করে!