ল্যানসেটের সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে, নীরবে লিভারের ক্ষয়ে ভয়ঙ্কর ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রায় ৪০% ভারতীয়। উপসর্গহীন এই ‘সাইলেন্ট’ সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকরা ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন।

লিভার (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 9 February 2026 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মদ্যপান নয়, স্থূলতা আর ডায়াবেটিস—এই তিনে মিলে ভারতে তৈরি হচ্ছে এক নীরব স্বাস্থ্যসঙ্কট। সাম্প্রতিক এক বৃহৎ গবেষণা বলছে, দেশের প্রায় চার জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে এক জন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হতে পারেন। সমস্যা হল, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই রোগ কোনও লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। ফলে বিপদ টের পাওয়া যায় অনেক দেরিতে।
এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ সাউথইস্ট এশিয়া (The Lancet Regional Health Southeast Asia)-তে প্রকাশিত ফেনোম ইন্ডিয়া–সিএসআইআর হেলথ কোহর্ট (Phenome India-CSIR Health Cohort) গবেষণা থেকে। সমীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ভারতের ২৭টি শহরের ৭,৭০০-রও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক।
কী বলছে গবেষণা: মেটাবলিক রোগ হিসেবেই ফ্যাটি লিভার
গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৩৮.৯ শতাংশ ভারতীয় প্রাপ্তবয়স্কের লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে এখন বলা হচ্ছে মেটাবলিক ডিসফাংশন–অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD)। আগে যাকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বলা হত।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এই সমীক্ষায় মদ্যপানকারী ব্যক্তিদের ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, লিভারের এই সমস্যা সরাসরি যুক্ত স্থূলতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও উচ্চ রক্তশর্করার সঙ্গে। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে বা যাঁরা অতিরিক্ত ওজনের, তাঁদের ঝুঁকি অনেক বেশি।
আরও ভয়াবহ তথ্য হল—যাঁদের ফ্যাটি লিভার আছে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬.৩ শতাংশের ক্ষেত্রে লিভার ফাইব্রোসিস ধরা পড়েছে। সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় এই হার অনেক বেশি। ফাইব্রোসিস মানে লিভারের টিস্যু শক্ত হয়ে যাওয়া—যা ভবিষ্যতে সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের দিকে এগোতে পারে।
কেন এত বিপজ্জনক: লক্ষণ নেই, ক্ষতি চলছে
ফ্যাটি লিভারকে চিকিৎসকরা বলেন ‘সাইলেন্ট ডিজিজ’। কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে কোনও ব্যথা, জ্বর বা স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। এমনকি সাধারণ রক্তপরীক্ষাও অনেক সময় স্বাভাবিক থাকে। অথচ ভিতরে ভিতরে লিভারে চর্বি জমতে থাকে।
এই রোগ ধীরে ধীরে ফাইব্রোসিস → সিরোসিস → লিভার ফেলিওর বা ক্যানসার—এই পথে এগোতে পারে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, যাঁদের ডায়াবেটিস ও স্থূলতা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে এই অগ্রগতির ঝুঁকি আরও বেশি।
ভারতীয়দের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ার আরেকটা কারণ হল জেনেটিক প্রবণতা। তুলনায় কম বিএমআই হলেও আমাদের শরীরে ভিসেরাল ফ্যাট দ্রুত জমে। তার সঙ্গে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, চিনি ও প্রসেসড খাবারের আধিক্য, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব—সব মিলিয়ে বিপদ বাড়ছে।
কী করবেন: প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় অস্ত্র
এই রোগের ভাল দিক একটাই—প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অভ্যাস বদলালেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সচেতন না হলে আগামী দিনে ফ্যাটি লিভার ভারতের বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট হয়ে উঠতে পারে।