রান্নাঘরে পড়ে থাকা সাধারণ এই সব্জিই ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে বড় সহায়ক হতে পারে।

মুলো
শেষ আপডেট: 20 January 2026 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবনযাপনের গতি যত বাড়ছে, ততই নিঃশব্দে বাড়ছে একাধিক ‘লাইফস্টাইল ডিজিজ’। তার মধ্যে অন্যতম ফ্যাটি লিভার (Fatty Liver)। ব্যস্ত রুটিন, প্রসেসড খাবার, মানসিক চাপ আর শরীরচর্চার অভাব, সব মিলিয়ে লিভারের স্বাস্থ্য আজ অনেকের কাছেই পিছনের সারিতে। আশঙ্কার বিষয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ টেরই পান না, যতক্ষণ না কোনও রুটিন পরীক্ষায় ধরা পড়ছে সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসা তো জরুরি বটেই, তবে রোজকার খাবারের সামান্য বদলও লিভারকে অনেকটা স্বস্তি দিতে পারে-এমনই মত পুষ্টিবিদদের।
এই প্রসঙ্গেই পুষ্টিবিদ নমামি আগরওয়াল (Nmami Agarwal) সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে নজর কেড়েছেন। তাঁর দাবি, রান্নাঘরে পড়ে থাকা সাধারণ এক সব্জিই ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে বড় সহায়ক হতে পারে। সেই সব্জিটি আর কিছু নয়, মুলো (Radish/Mooli)। কোনও সাপ্লিমেন্ট নয়, কোনও দামি ডিটক্স ড্রিঙ্কও নয়, বরং পরিচিত এই সব্জিটিকেই তিনি আখ্যা দিয়েছেন ‘লিভারের সুপারহিরো’ বলে।
নমামির কথায়, মুলো প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে। এটি লিভার থেকে টক্সিন (Toxin) বের করে দিতে সাহায্য করে, ফলে লিভারের উপর চাপ কমে। যাঁদের লিভার ইতিমধ্যেই চাপে রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে উপকারী। পাশাপাশি মুলোয় রয়েছে ভিটামিন সি (Vitamin C) এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট (Antioxidant), যা ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিনের প্রদাহ (Inflammation) লিভারের ক্ষতি বাড়াতে পারে—সেই জায়গায় মুলো কার্যত ‘নীরব দেহরক্ষী’র মতো কাজ করে বলে মত পুষ্টিবিদের।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন নমামি আগরওয়াল। তাঁর মতে, মুলো পিত্তরসের প্রবাহ (Bile Flow) উন্নত করে। পিত্তরস ঠিকভাবে নিঃসৃত হলে শরীরে চর্বি হজম হয় ভালভাবে। এর ফলে লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট জমার প্রবণতাও কিছুটা কমতে পারে, যা ফ্যাটি লিভার সমস্যার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত।
এ ছাড়াও মুলোয় থাকা গ্লুকোসিনোলেটস (Glucosinolates) নামের উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং ফ্যাটি লিভারকে জটিল করে তুলতে পারে এমন উপাদানগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করে।
কীভাবে খাবেন মুলো?
সে পদ্ধতিও বলে দিয়েছেন পুষ্টিবিদ। সকালে মুলো ভেজানো জল খান, খালি পেটে অল্প পরিমাণ মুলোর রস (Juice) খাওয়া, স্যালাডে কাঁচা মুলো যোগ করা বা রোজকার খাবারের সঙ্গে মুলো রাখা—এই সহজ উপায়গুলির কথাই বলেছেন তিনি।
একই সঙ্গে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন নমামি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, মুলো কোনও ম্যাজিক করতে পারে না। কিন্তু সুষম জীবনযাপন, ঠিক খাবার আর নিয়মিত অভ্যাসের সঙ্গে মুলো যোগ হলে ডিটক্সিফিকেশন, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাট মেটাবলিজমে (Fat Metabolism) সাহায্য করতে পারে। অর্থাৎ, সুস্থতার রাস্তা কখনও কখনও শুরু হয় থালাতেই।