Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

Rabies Death: ৯ বছরের বাচ্চাকে আঁচড়ে দিয়েছিল কুকুর, ৬ মাস পর মৃত্যু জলাতঙ্কে! কেন এত মারাত্মক?

মুম্বইয়ে ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু রেবিসে। শুধু কামড় নয়, কুকুরের আঁচড়ের পরেও টিকা নিতে হবে, না নিলে কেন প্রাণঘাতী হতে পারে?

Rabies Death: ৯ বছরের বাচ্চাকে আঁচড়ে দিয়েছিল কুকুর, ৬ মাস পর মৃত্যু জলাতঙ্কে! কেন এত মারাত্মক?

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 25 March 2026 11:49

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের এক ছোট্ট মেয়ে কাশিস, বয়স মাত্র ৯ বছর। একদিন খেলতে খেলতে কুকুরের হালকা একটা আঁচড় লাগে। তেমন কিছুই না—রক্ত পড়েনি, ব্যথাও খুব একটা ছিল না। বাড়ির লোকও ভেবেছিলেন, “এতে আবার কী হবে!”

সেই ‘কিছু হবে না’ ভেবেই পেরিয়ে যায় দিন, সপ্তাহ, মাস। টিকা নেওয়া হয়নি। সময় গড়ায়। এক মাস, দু'মাস… ছ'মাস পর হঠাৎ সবকিছু বদলে যায়। অসুস্থতা, অস্বস্তি, অদ্ভুত আচরণ, সব শেষে এক নির্মম পরিণতি।

কারণ কাশিস রেবিসে আক্রান্ত হয়েছিল সেই কুকুরের আঁচড়ের পরে। যখন ধরা পড়ে, তখন আর কিছুই করার ছিল না।

ছোট্ট আঁচড়, বড় বিপদ

অনেকেই ভাবেন, কুকুর কামড়ালেই শুধু বিপদ, টিকা নিতে হবে। কিন্তু আসল ছবিটা তা নয়। সামান্য আঁচড়, এমনকি কাটা জায়গায় লালা লাগলেও শরীরে ঢুকে যেতে পারে রেবিস বা জলাতঙ্কের ভাইরাস।

আর রেবিস এমনই এক রোগ, যা চুপচাপ শরীরে ঢুকে ধীরে ধীরে স্নায়ুর পথ ধরে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। প্রথমে কিছুই বোঝা যায় না। মানুষ স্বাভাবিক জীবনই কাটায়। কিন্তু একবার লক্ষণ শুরু হলে, সবকিছু খুব দ্রুত খারাপের দিকে যায়।

কেন এত ভয়ংকর এই রোগ

চিকিৎসকরা এই রেবিস বা জলাতঙ্ককে, সবচেয়ে মারাত্মক সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে একটি বলেন। কারণ একটাই। এটা শুরু হলে আর থামানো যায় না। জ্বর, অস্থিরতা, আচরণে বদল… তারপর জল দেখলেই ভয়, খিঁচুনি, বিভ্রান্তি।

এই পর্যায়ে পৌঁছলে বাঁচার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। অন্য অনেক রোগের মতো এখানে দ্বিতীয় সুযোগ বলে কিছু নেই।

তাই রেবিসের বিরুদ্ধে লড়াইটা আসলে শুরু হয় কামড় বা আঁচড়ের পরই। সঙ্গে সঙ্গে যদি ক্ষত জায়গা ভাল করে ধুয়ে ফেলা যায় আর দ্রুত টিকা নেওয়া যায়, তাহলে রেবিস পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অর্থাৎ, সময়মতো পদক্ষেপ করলে এই রোগ থেকে বাঁচা যায়। কিন্তু দেরি হলেই চরম বিপদ।

তবু কেন এত অবহেলা

সমস্যাটা এখানেই। অনেকেই ভাবেন, “এতটুকু আঁচড়ে কিছু হবে না।” কেউ আবার একাধিক ইঞ্জেকশনের ভয়ে পিছিয়ে যান। কেউ বা ঘরোয়া টোটকায় ভরসা করেন। এই ছোট ছোট ভুলগুলোই পরে বড় হয়ে দাঁড়ায়।

ভারতে প্রতি বছর কয়েক হাজার মানুষ রেবিসে মারা যান। তাঁদের অনেককেই বাঁচানো যেত, যদি সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া হতো।

তথ্য বলছে, শিশুরাই সবচেয়ে বেশি পড়ে এই বিপদের মুখে। তারা বাইরে বেশি খেলে, প্রাণীদের সঙ্গে মিশে। আবার ছোটখাটো আঘাত অনেক সময় কাউকে জানায় না। ফলে সংক্রমণ অনেক সময় ধরা পড়ে না, যতক্ষণ না দেরি হয়ে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (World Health Organization) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে রেবিসে মৃত্যুর বড় অংশই ঘটে ভারতে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এই রোগ নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েছে। কিন্তু তার জন্য শুধু টিকা নয়, দরকার সচেতনতা।

কাশিসের ঘটনা যেন সতর্কতা

মুম্বইয়ের ছোট্ট মেয়ে কাশিসের মৃত্যু শুধু একটা দুর্ঘটনার নয়, একটা সতর্কবার্তাও। মনে রাখতে হবে, একটা ছোট আঁচড়, একটু অবহেলা, আর সামান্য দেরি— এই তিনেই বদলে যেতে পারে একটা জীবন।

রেবিস এমন এক রোগ, যাকে আমরা সহজেই আটকাতে পারি। কিন্তু একবার যদি শুরু হয়, তখন আর কোনও রাস্তা খোলা থাকে না। তাই মনে রাখা দরকার, “কিছু হবে না” ভেবে বসে থাকা সবচেয়ে বড় ভুল।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.


```